
নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার প্রত্তান্ত এলাকার অবোহেলিত দক্ষিন চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
দুইহাজার ছয়/সাত সালে একটি ভবন নির্মান হলে ও নাই এখন ও আধুনকি ভবন।আছে সারি সারি ফুল ও ফলের গাছ, শিশু বান্ধব এক পরিবেশ যা শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ালেখার মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিদ্যালয়টিতে।
আর এই উদ্যোগ নিযেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা মোকছেতু নাহার ময়না। দৃষ্টি নন্দন প্রতিষ্ঠান টি ফুলে ভরা ছাত্র/ছাত্রী থাকলো ও নাই দৃষ্টি নন্দন ভবন । সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলের সামনের অংশে নানা জাতের ফুল গাছের মাধ্যমে করা হয়েছে সৌন্দর্য বর্ধন। পরিপূর্ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয় টি।
শুধু শিশুরা নয় এমন পরিবেশে মুগ্ধ হতে বাধ্য সব বয়সের মানুষ। মনোরম এমন পরিবেশে এক সাথে আছে মোট ২৩২জন শিক্ষার্থী। পড়াশুনা খেলাধুলা ও শিশু পার্কের মত ঘুড়াঘুড়ি সুযোগ হওয়ায় স্কুল বিমুখ অনেক শিক্ষার্থী হয়েছে স্কুল মুখি।বেড়েছে শিক্ষার্থীদের তুলনা মুলক উপস্তিতি ও পড়াশুনার চাহিদা।
এছাড়াও স্কুলের এমন পরিবেশে নিশ্চিন্ত মনে বাচ্ছাদের স্কুলে পাঠানোর পাশাপাশি খুশি অভিভাবকরা। এমন স্কুল সচারাচর দেখা যায়না । একই এলাকার একজন অভিবাবক বলে, শুধু স্কুলের পরিবেশ নয়, পরিবেশের মতই সুন্দর স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা। তারা ছেলে মেয়েদের এমন যত্ন নেয় শিক্ষকরা তা এখানে না দেখলে বুঝতাম না।
স্কুলটির রেজাল্ট ও অনেক ভালো। আর পরিবেশ তো আপনারা দেখলেন। প্রধান ম্যাডাম বলে, আগে মাঠ টা ফাকা ছিলো। কেমন দেখাতো আমরা পার্কের মত করে দিছে। এখন ছাত্র/ছাত্রীরা খেলা ধুলা করে পরিবেশ টাও ভালো লাগে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা মোকছেতুনাহার বলেন, আসলে আমরা মনে করি যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায়না।
যখন স্কুলে আসতে চায়না তখন তাদের স্কুলের প্রতি তত আগ্রহ থাকেনা। তো আমাদের চিন্তা হয়েছে যে স্কুলের প্রতি কিভাবে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করা যায়। স্কুলে তারা নিয়মিত উপস্থিত হলে তারা পড়ালেখার ক্ষেত্রে এমনিতে আগ্রহী হবে। এরই ধারাবাহিকতায় এই আমরা উদ্যোগ নেই যে স্কুলের পরিবেশ টা শিশু বান্ধব করি।
পরিবেশ যখন শিশু বান্ধব হবে তখন শিক্ষার্থীদের পিছনে আমাদের ছুটতে হবেনা, শিক্ষার্থীরাই প্রতিদিন স্কুলে আসবে। সে যায়গা থেকে এই ব্যতিক্রম কিছু করা। এতে আমার সহকর্মীরা ও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে দিক নির্দেশনা দিয়েছে।
আমরা যদি মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে জাতী অনেক টা পিছিয়ে থাকবে। দীর্ঘ কয়েক বছর নানান কারনে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে,শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে অনেক টা দূরে থাকার কারনে তারা স্কুল মুখী হন নাই।
তাদের শিক্ষার পরিবেশ থেকে অনেকটাই তারা দূরে ছিল। এই ভিতি কাটিয়ে তোলার জন্য আমাদের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের স্কুল ভীতি কাটিয়ে পুনরায় তাদের স্কুলের পরিবেশে নিয়ে আসার জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি মানবিক বিকাশে কোন বিকল্প নাই।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কে স্কুলে ফিরে আনার জন্য দক্ষিন চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যান্ত প্রশংসনীয়। আমাদের বিদ্যালয় বাউন্ডারী ওয়াল ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের জন্য উপজেলা প্রশাসন,বরাবর একাধিক বার দরখাস্ত করেও পাননি কোন বরাদ্দ I তাই দাবী জানাই প্রধান উপদেষ্টা মহাদয়ের কাছে চেরেঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ ও বাউন্ডারী ওয়াল করে দেয়।