
সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে গাইবান্ধায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩ এর অভিযানে এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
র্যাব সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নিয়মিতভাবে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন গুরুতর সামাজিক অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনায় অভিযান চালানো হয়।
বাদী নন্দলালের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোঃ আল আমিন (২৭) নামের ওই ব্যক্তি গাইবান্ধা শহরে একটি সিএনজিতে যাতায়াতের সময় নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত বলে পরিচয় দেয়। তার কথায় বিশ্বাস করে সিএনজি চালক নন্দলাল নিজের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য আল আমিনের সহায়তা চান।
পরবর্তীতে আল আমিন মোবাইল ফোনে নন্দলালকে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নেয় এবং জমি উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় নন্দলাল যোগাযোগের চেষ্টা করলে আল আমিনের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সন্দেহ হলে তিনি গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আল আমিন নামে সেখানে কোনো র্যাব সদস্য কর্মরত নেই।
এরপর নন্দলাল বাদী হয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা সদর থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪০৬/৪২০ ধারায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-১১।
মামলার পর সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল একই দিন রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় গাইবান্ধা সদর থানাধীন দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি মোঃ আল আমিনকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারিকেলবাড়ী এলাকায়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে, সে বিভিন্ন সময় নিজেকে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। সে তার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন নম্বর কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নামে সংরক্ষণ করে রাখত এবং ভিকটিমদের কাজ হয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দিত। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত সরঞ্জাম দেখিয়ে সে প্রতারণা চালাত এবং টাকা আদায় করে পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করত।
গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর বুট, ব্যাগ, হ্যান্ডকাফ, ভুয়া আইডি কার্ড, অফিসিয়াল সিল, নেমপ্লেট, মোবাইল পাস, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, চাকরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র এবং একাধিক সিমকার্ডসহ একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা র্যাবের কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।