
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে দ্রুতগতিতে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন—এ নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এই আলোচনায় গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনের নামও উঠে এসেছে। রাজনৈতিক অন্দরমহলে গুঞ্জন রয়েছে, তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তালিকা বা আলোচনায় থাকা নামগুলো চূড়ান্ত নয়। শপথের প্রাক্কালে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকার মাধ্যমেই জানা যাবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন।
এদিকে সম্ভাব্য এ আলোচনার প্রেক্ষিতে গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি প্রণয়ন, হজ প্যাকেজ ঘোষণা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন এবং তীর্থযাত্রীদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ মন্ত্রণালয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্ট তত্ত্বাবধান করে থাকে। পাশাপাশি ওয়াকফ প্রশাসন পরিচালনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং সরকারি অনুদান প্রদানের কার্যক্রমও এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসারে গবেষণা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়াও ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ, ধর্মীয় নেতাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের বিষয়গুলোও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, শামীম কায়সার লিংকন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি, ১৯৯৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০০৩ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার আইআইএফ থেকে আইসিটিতে মাস্টার্স এবং এনআইআইটি থেকে নেটওয়ার্ক, ফাইন্যান্স অ্যান্ড এমআইএস বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়াও তিনি আল আসর ইনস্টিটিউট, ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশন (এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ) থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজিতে পিএইচডি ক্যান্ডিডেট ছিলেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিমত, উচ্চশিক্ষিত এ সংসদ সদস্যকে ধর্ম মন্ত্রণালয় বা তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন। তবে চূড়ান্ত মন্ত্রিসভা ঘোষণার আগ পর্যন্ত সবকিছুই রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।