
গাইবান্ধায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সচল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্তিকরণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ, গাইবান্ধা জেলা শাখা।
রবিবার (৮ মার্চ ২০২৬) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে জেলার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনার বিষয় তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক বা তারও বেশি সময় ধরে বহু স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতনহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক বৈষম্য ও অসম নীতিমালার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্তির বাইরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর পারিবারিক জীবন চরম সংকটে পড়েছে, এমনকি অনেকে জীবনও হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তিনবার এবং শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে দুইবার এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ বিষয়ে একটি নির্দেশনাপত্রও পাঠানো হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত টানা ১৭ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে শিক্ষা উপদেষ্টার আমন্ত্রণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তিন মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এরপরও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় গত বছরের ২১ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি এবং কাফনের কাপড় পরে ঢাকায় মিছিল করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আবারও একই দাবিতে হাজার হাজার নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী টানা ৬৭ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সব মিলিয়ে মোট ৮৭ দিন আন্দোলন চালানো হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাজেট বরাদ্দ দিয়ে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু করে। এতে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য হিসেবে নির্বাচন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত এমপিওভুক্তির জন্য তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
প্রথমত, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে আবেদনকৃত ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের চলমান সফটওয়্যার তৈরির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
তৃতীয়ত, এমপিও আবেদনকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী একযোগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ, গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ মনজুরুল হক।