
বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখের ‘কথিত’ গুমের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তেও কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ’ ও ‘অপারেশন সুন্দরবন’ পরিচালনার ফলে জলদস্যু ও বনদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকে কোস্টগার্ডের অফিসে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। মিরাজ শেখের বিষয়টি দস্যু দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ফল বলেই তথ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমান সরকারের বিগত ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই মেয়াদে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের মতো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের আইন ক্যাবিনেটে পাস হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ২৭ আগস্ট আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এতে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘকাল নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ওয়ারিশদের সম্পত্তির অধিকার লাভ এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আইনটি বর্তমানে সংসদীয় কমিটিতে রয়েছে এবং এতে যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নিজের গুম হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ বাই ১০ ফুটের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ভেন্টিলেশন ছাড়াই দীর্ঘ সময় তাঁকে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে চোখ বেঁধে তাঁকে ভারতের শিলংয়ে পাচার করা হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের মামলায় সাড়ে নয় বছর আইনি লড়াইয়ের পর তিনি খালাস পান। ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ায় তিনি সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, মীর আহমদ বিন কাসেম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নূর খান লিটন ও আলোকচিত্র শিল্পী শহীদুল আলমসহ বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে মন্ত্রী জাদুঘরের গ্যালারিতে সাত দিনব্যাপী বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেজন্য তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কোস্টগার্ডের অফিসে হামলা চালানোর ঘটনায় একটি কোস্টগার্ড কেন্দ্রিক মামলা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে ৫ বাই ১০ ফুটের এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কোনো প্রকার ভেন্টিলেশন ছাড়াই তাঁকে দীর্ঘ দিন বন্দি রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর আশঙ্কায় কেটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারবর্গ অনুষ্ঠানে নিজেদের মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন।