
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি প্রদেশে এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক এবং পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এছাড়া পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় ২৫৬ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল।
এই ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (কমনাস হাম) পুলিশকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো জানিয়েছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। যদিও শুক্রবার এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোনো কারণ না জানিয়েই তা স্থগিত করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর শিশুদের অপুষ্টি দূর করা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিটি চালু করেছিলেন। তবে জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ইতিমধ্যে ৩০ দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর পেছনে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার মতো কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। এর আগে জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় কমনাস হাম কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
অভিভাবকদের মধ্যেও এই কর্মসূচি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি চান সরকার যেন এই বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। এছাড়া জুলাই মাসে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।