মোঃ আল আমিন, জেলা প্রতিনিধি(গাইবান্ধা): গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ ধারন ব্রহ্মপুত্রও তিস্তা বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ হুমকী’র মুখে গত ২৪ ঘন্টায় গাইবান্ধার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি উপজেলার পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। তিস্তা নদী’র ডানতীর বাধেঁর সুন্দরগঞ্জে বেলকা হইতে হরিপুর ঘাট ৫ কি:মি: বাধ হুমকী মুখে পড়েছে যেকোন মূহর্তে বাধঁ ভেঙ্গে ৩টি উপজেলা বন্যা কবলিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদী’র ডানতীরে ৭৮ কি:মি: বাধেঁর ৯টি পয়েন্টে হুমকির মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ২৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া ও যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের ফলে বসতবাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফার বন্যায় বিভিন্ন ঘড় বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে উচু বাধঁ ও আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। এদিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মতিন। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বালাসীঘাটের চারমাথা থেকে কাইয়ার হাট পর্যন্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন উপরে অবস্থানরত বানভাসী মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধানের ব্যবস্থা করেন। এরপর জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সৈয়দপুর এলাকায় বানভাসী মানুষদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চাল, চিড়া, ডাল, চিনি, তেল, নুডুস, লবন সমৃদ্ধ প্যাকেট বিতরন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম সেলিম পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া প্রমুখ।