গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নানান ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০-২০ টাকা বেড়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেশি। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
তেমনি একজন ক্রেতা বানিয়ারজান এলাকার আবদুর রহমান (৫৫) বলেন, চাকরিজীবীদের সারা বছর চাল কিনে খেতে হয়। বাজারে এসে দেখেন চালের সঙ্গে সবজি, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও বৃদ্ধি। বাধ্য হয়ে তাই কয়েক কেজি চাল কম কিনেছেন তিনি।
গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজার ও হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বিআর-২৮ জাতের চাল ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকা, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, প্রতি কেজি রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ১৫ থেকে ২৫ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৬০ থেকে ৭৫ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, শিম ১০০ টাকা কেজি, ফুল কপি ৬০-৭০ টাকা, পাতাকপি ৭০ টাকা, লালশাক, মূলাশাক, সরিষাশাক ১০ টাকা এক আটি, লাউশাক ৩০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা ৪০ টাকা হালি, মুখি কচু ৪০ টাকা দরে
বিক্রি হচ্ছে। মাছ, মুরগির বাজারেও স্বস্তির খবর নেই। বিভিন্ন ধরণের মুরগিও তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল। তবে সয়াবিন তেলের দাম যেমন খুশি তেমন বিক্রি হলেও মসুর ডাল, লবণ অপরিবর্তিত আছে।
শহরের সুখনগর এলাকায় বাবুল মিয়া বলেন, 'যে আয় হয়, তার চেয়ে বেশির ভাগ টাকা দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চাল, সিলিন্ডার গ্যাস, ছেলের লেখাপড়ার খরচে ব্যয় হয়। প্রতি মাসেই ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম শুনে মাথা ঘুরে যায়। শাকসবজিরই যে দাম, মাছ- মাংসের দিকে তাকানোর সাহস পাইনে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।' দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে পুরাতন বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বেশি দামে সবজি কিনতে হয়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে বর্তমানে কিছু সবজির দাম কমেছে। আরও কমার আশা করছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন মুঠোফোনে জানান, নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অভিযানও চালানো হচ্ছে।