পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ১৯৮৯ সালের ২রা ডিসেম্বর দেশবিরোধী পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) এর সাথে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২টি ধারার একটি চুক্তি সাক্ষর করেন। যা অনেকের কাছে শান্তিচুক্তি নামে পরিচিত থাকলেও বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সেটা ভাইফোঁড় চুক্তি নামে চিনে। এই চুক্তির ফলে পাহাড়ে একদিকে যেটুকু শান্তির বীজ বপন হয়েছে, অন্যদিকে সেই বীজ থেকে গজিয়েছে বিষাক্ত চারা
চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে এমন কিছু ধারা আছে যা চাকমা ও মারমা ছাড়া বাকি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কারও উপকার হয়নি। সবচাইতে বেশি ভোগান্তির স্বীকার পাহাড়ে বসবাসরত ৫৪% বাঙালি।
শান্তিচুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি⛔
প্রথম ফাঁকি হচ্ছে এটি এমন এক চুক্তি, যেখানে নির্দিষ্ট করে কোনো মেয়াদ উল্লেখ নেই। প্রতিটি চুক্তির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে।(এতো বছর থেকে আগামি এতো বছর) কিন্ত অবাক করার বিষয় হচ্ছে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস এর সাথে করা এই চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট করে মেয়াদ উল্লেখ নাই!! আর এই মেয়াদ উল্লেখ না থাকার কারণে সারাজীবন পাহাড়ের একটিমাত্র জনগোষ্ঠী সুবিধা পেয়েই যাচ্ছে। যেমন চাকমাদের বর্তমান শিক্ষার হার ৭৫% এর ও বেশি। আর্থিক সচ্ছলতাও সবচাইতে বেশি চাকমাদের। একটি জাতি ৭৫%+ শিক্ষার হার নিয়ে কীভাবে পিছিয়ে পড়া জাতি হয়?..তাহলে কোন যুক্তিতে তারা ২০২৪ পর্যন্ত(বাঙালি ব্যাতিত) অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মতো ৫% কোটা ব্যবহার করে আসছিল? চাকমা জনগোষ্ঠী জীবনমান উন্নয়নে সন্তোষজনক ভাবে এগিয়ে গেছে। এখনো কোন যুক্তিতে তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা একতরফা ভাবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। সব কিছুর মুলেই হচ্ছে শান্তিচুক্তির শুভংকরের ফাঁকি অর্থাৎ,মেয়াদ বিহীন চুক্তির ফল।
সকল দিক থেকে চাকমা জনগোষ্ঠী অনেক এগিয়ে গেছে। যা চাকমা জাতিগোষ্ঠীর বিশাল এক প্রাপ্তি। তবে অনেকের মতে, চুক্তি ও কোটা একতরফা ব্যবহার করে চাকমা জাতিগোষ্ঠী এগিয়ে যাওয়ার পরেও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গুলোকে চাকমা ও মারমা'রা এই চুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত করেছে। এমতাবস্থায় চুক্তি সংশোধন করা জরুরী।
তানভির হোসেন ইমন
পৌর সভাপতি
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ,বান্দরবান জেলা