মোঃ খলিলুর রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী জলঢাকায় সরকারি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বিশাল খড়ের পুজে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজ শাখার কিছু দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থী কর্তৃক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগেীদের অভিযোগ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে কলেজ অধ্যক্ষই ঘটিয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কিংবা ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে উদঘাটন করতে পারেনি, আসলে কে বা কাহারা এবং কেন এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে।
গতকাল ২১শে জানুয়ারী রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন কলেজপাড়ায় এ আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে ধ্রæমজাল। সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে যায়, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ প্রানপন চেষ্টায় অগ্নিকান্ড সংঘটিত স্থানে পানি নিষ্কাশন করছেন। একদিকে পুলিশের উপস্থিতি অন্যদিকে উৎশুক জনতা ও মিডিয়া কর্মীদের আনাগোনা। এ সময় কলেজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান হিট্টু গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, আমার দখলীয় জমির বাঁশের বেড়া টানাহেঁচড়া করে তুলে দিয়ে বেদখল দেয়ার চেষ্টা করে কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে থাকা একটি খড়ের পুজ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটায় তারা। এ সময় তিনি আরো বলেন ,কলেজের অধ্যক্ষ আকবর আলী ও অফিস সহকারী মানিক হোসেনের হুকুমে এবং নির্দেশনায় কলেজ শাখার কিছু দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীরা আমার দখলীয় জমির বেড়া ভেঙ্গে দিয়ে খড়ের পুজে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এসময় আমার গায়ে হাতও তুলেছে অধ্যক্ষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজ পাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটেছে। আরো জানা যায়, তৎকালীন ওই জমির মালিক কান্তেশ্বর রায় ( পন্ডিত) গত ৩০শে নভেম্বর ১৯৫৯ সালে ৪০২ দাগে ০.৩৬ একর ও ৪০৪ দাগে ৪.০৫ একর জমি বিক্রি করেন আব্দুর রশিদ খাঁ, তার মা জমিলা খাতুন, নাবালক পুত্র আব্দুল ওয়াহেদ খাঁ ও ভাই আকমল হোসেন খাঁ'র নিকট।
অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবী আব্দুর রশিদ খাঁ এবং তার নাবালক ছেলে ওয়াহেদ খাঁ'র অংশ হইতে ১ একর জমি ( ১শত শতাংশ ) জমি কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে কবলা সূত্রে দান করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এ জমি নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা না হলেও বর্তমান সময়ে দাতা সদস্য ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কলেজ সংলগ্ন উক্ত জমি কলেজ কর্তৃপক্ষ আমিন কর্তৃক মাফযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জমি বলে দাবী করেন। কিন্তূ দাতা সদস্যের অংশিদ্বারিত্বে থাকা আকমল খাঁয়ের পুত্রবধূ জুলিয়াছ তানিয়াছ উক্ত জমি নিজের বলে দাবী করায় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত জমিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলা বিজ্ঞ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন জুলিয়াছ তানিয়াছ। আদালত উক্ত মামলটি পর্যালোচনায় ফৌঃ কাঃ বিঃ(১৮৯৮ এর ১৪৫)(১) ধারার বিধান মোতাবেক প্রতিপক্ষকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন এবং প্রাথমিক তদন্তের জন্য স্থানীয় এ্যাসিল্যান্ড ও থানা পুলিশকে অবগত করেন। অন্যদিকে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সে নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কিছু দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়ে এ অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আকবর আলী বলেন কোন হক দারের হক আমার পক্ষে পন্ড করা সম্ভব নয়। উক্ত জমির খারিজ খাজনা সহ সমস্ত কাগজ পত্রাদির ডুকোমেন্ডে আমার কাছে আছে। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের যাওয়া ঠিক হয়নি। যেহেতু এটি কলেজের জায়গা সেহেতু শিক্ষার্থীরা আকস্মিক ভাবে উপস্থিত হয়ে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় যা করাটা শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঠিক হয়নি। শিক্ষার্থীদের এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সূত্রপাতে আমি হতবিহ্বল।
এ বিষয়ে জলঢাকা ফায়ার সার্ভিস এন্ড ডিফেন্সের ইনচার্জ মকবুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ঘন্টা ব্যাপী পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে বাসা বাড়িতে আগুনের সুত্রপাত বিচ্ছিন্ন ঘটাতে সক্ষম হই এবং ৩০ হাজার টাকা মুল্যের খড় পুরে ছাই হয়ে গেছে ও প্রায় ২ লক্ষাধীক টাকা মুল্যের মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আগুনের সূত্রপাত বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক ধারনায় আসলে প্রতীয়মান হচ্ছে না ঠিক কি কারনে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগে তদন্ত করে দেখি তখন জানাতে পারবো।
অন্যদিকে এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মুক্তারুল আলম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে না পাওয়ায় তাঁর মন্তব্য জানা যায়নি।