ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় জেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে এবং রাতে খবর আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মহত্যার ঘটনা। দিন দিন বেড়েই চলেছে তবে কিছুতেই যেন কমছে না এই আত্মহত্যা। উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও এই জেলায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন তাদের মধ্যে দেখা গেছে পারিবারিক চাপ, পড়াশোনায়, প্রেমে ব্যর্থতা, বিবাহ বিচ্ছেদ, পরকীয়া সম্পর্ক, কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে অথবা ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় বিভিন্ন কারণে নারী ও পুরুষেরা এই আত্মহত্যার দিকেই ছুটছেন। কিন্তু যে মানুষটি দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় তার পরিবারকে সমাজের কাছে কতটা হেনস্তার শিকার হতে হয়, সামাজিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা কি কখনো কেউ চিন্তা করে। মানুষ হয়তো মরে গিয়ে মুক্ত হতে চায়, কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়। সমস্যা যেমন রয়েছে সমাধানের রাস্তাও ঠিক ততটাই রয়েছে। তবে জীবন যুদ্ধে হেরে না গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আসতে এরজন্য উচিত নিজের কষ্টের কথাগুলো নির্ভরযোগ্য আপন মানুষকে বলা এবং সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করা। এই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়রা মনে করছেন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থাকে যেটি তারা আত্ম সম্মানের ভয়ে কারো সাথে কথা বলে সমাধান করতে পারে না। অন্যদিকে জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কম, অনেক শিক্ষিত ছেলে ও মেয়েরা পড়াশোনা করছে আবার কেউ শেষ করেছে। তারা বেশিভাগ কষ্ট করেই চলছে। অভাব এবং হতাশায় ভুগছে এখনো অনেকেই কেউ ইচ্ছা করে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে না। কিছু পরিবার রয়েছে বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তারা তাদের সন্তানদের ঠিকমতো খোঁজ খবর রাখছে না। প্রত্যেকটি পরিবারের উচিত তাদের সন্তানদের খোঁজখবর রাখা এবং বন্ধুর মতো আচরণ করা। যাতে তারা সমস্যার কথা পরিবারকে জানিয়ে বিপদের পথ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর ছিদ্দিক অধ্যক্ষ বলেন সমাজের উড়তি বয়সী মেয়েরা বিভিন্ন কারণে আত্ম হনন করছে। এই বিষয়টি আসলেই ভাববার বিষয়, মেয়েরা বিশেষ করে কেন এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। বর্তমানে মেয়েরা যদি কোথাও ইভটিজিং সহ অন্যান্য বিষয়ে হেনস্থার শিকার হয় সেটা তারা পরিবারের সাথে শেয়ার করতে পারেনা। সে কারণেই অনেকেই এই পথটি বেছে নিচ্ছে। এখান থেকে বের হয়ে আসার জন্য সচেতন হতে হবে পরিবারকে সন্তানদের সময় দিতে হবে। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে এই ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে ঘন ঘন অনুষ্ঠান করতে হবে। এদিকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রকিবুল আলম চয়ন জানান জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কারণ হিসেবে যেটি দেখা যায়। অভাব অনটন, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রেজাল্ট, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, মাদকাসক্ত ব্যক্তি তারা মূলত এই বিষয়গুলোর চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার মতো এই পথটি বেছে নিচ্ছেন। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন গত এক বছরে ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন বয়সী পুরুষ এবং মহিলা ২০৮ আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা কমিয়ে আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলোর প্রচারণা করা হচ্ছে। সেই সাথে জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন আত্মহত্যার ব্যাপারে কাজ করার পরিকল্পনা করছে জেলা পুলিশের। আত্মহত্যার মতো ঘটনা কমিয়ে আনার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেছেন জেলায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার বৃদ্ধি পেয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কারণগুলো যাচাই করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন। মানুষ যেন এই পথটি বেছে না নেয়। সেই কারণে সচেতনামূলক প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।