গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ফকিরহাট এলাকার বরকতপুর উচ্চ বিদ্যালয় (EIIN: 121374)-এর নতুন ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হলেও ধীরগতিতে চলায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে করে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে এবং শিক্ষকরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করতে পারছেন না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন ক্লাসরুম ভেঙে ফেলা হলেও কিছুদিন পর হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেন খন্দকার বলেন, “২০২৩ সালের শেষ দিকে ভবনের কাজ শুরু হলেও হঠাৎ করে তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথায় যোগাযোগ করলে কাজ দ্রুত শুরু হবে সে বিষয়েও আমরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাইনি। ভবন না থাকায় ক্লাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুতগতিতে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক হয়।” অন্য শিক্ষক মোঃ মাহআলম খন্দকার জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই নানা জটিলতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, “ভবন নির্মাণের জায়গায় আগে পুরাতন ক্লাসরুম ছিল, সেগুলো ভেঙে ফেলার পর থেকে আমরা খোলা ও অস্থায়ী পরিবেশে ক্লাস নিচ্ছি। এতে ক্লাস নেওয়ার পরিবেশ অনুকূল থাকছে না। বর্ষার সময় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আবার তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকতে পারে না। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে এবং পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।” বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেটি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপদ অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আশরাফুলের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে কাজ বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। শিক্ষক ও স্থানীয়দের দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতির পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হলে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।