‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো গাইবান্ধাতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬।
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ লায়লাতুল হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নার্গিস জাহান, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের সময় বহু নারী শ্রমিক গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন।
পরবর্তীতে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠিত হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। এরপর ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হন।
নারী শ্রমিকদের এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
পরে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। ১৯৭৭ সালে সংস্থাটি দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। তাই নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে।
সভা শেষে নারী অধিকার, সমতা ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।