বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন এর কুরুফ পাতার ঝিরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ম শ্রেণির জমিতে পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট (পুকুর) খননের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত মুসা নামের এক ব্যক্তি প্রশাসনের অনুমোদনের কথা বলে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে মাছ চাষের প্রকল্প গড়ে তুলছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুরুফ পাতার ঝিরি এলাকার পাহাড়ি ভূমিতে ব্যাপক খননকাজ চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড়ের মাটি কেটে সমতল করা হচ্ছে এবং সেখানে মাছ চাষের জন্য বড় আকারের পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানতে চাইলে তিনি পাহাড় কাটার কোনো অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। ইউএনও বলেন,
“পাহাড় কাটার বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা সম্পূর্ণ ভুয়া প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার প্রশ্নই আসে না।”
তবে অভিযুক্ত মুসার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট খননের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এ কাজে ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। যদিও তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদনপত্র বা বৈধ নথি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি।
অনুসন্ধানকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মুসা একাধিক বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি প্রকৃতপক্ষে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশে বাধা কোথায়? আর যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে কার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে পাহাড় কেটে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?
পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড় কাটা এবং ভূমির প্রকৃতি পরিবর্তন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভূমিধস, মাটিক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যছক
স্থান: কুরুফ পাতার ঝিরি, ২ নম্বর ওয়ার্ড, লামা, বান্দরবান
জমির শ্রেণি: ১ম শ্রেণির জমি
অভিযোগ: পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট (পুকুর) খনন
অভিযুক্ত: মুসা
ইউএনওর বক্তব্য: “কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি”
মুসার দাবি: “ইউএনও ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে”
অতিরিক্ত অভিযোগ: সাংবাদিকদের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে হুমকি প্রদান করে।