খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত বলেছেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও সকল ধরণের অপরাধের মূল উৎপাটনে প্রশাসন ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে। সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তরুণ প্রজন্যকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সকল সরকারি কর্মকর্তাকে জনবান্ধব মানোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
সাধরণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রশাসনকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতা। বৃক্ষ রোপন করতে গিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিকল্প প্রভাব মোকাবেলা এবং আগামী প্রজন্যের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষ রোপনের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ গোপন ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।
সরকারের চলমান বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিতে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণের আহবান জানান তিনি। দুপুরে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কালে তিনি বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থবান মানুষদের অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে হবে।
সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। খাল খনন পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী রক্ষা করা মানে প্রকৃতি ও মানুষের জীবন জীবিকা রক্ষা করা। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন নয়, এটি কৃষক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনের কার্যকর উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে।
জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ৪ জুন দিনব্যাপী খুলনার তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের অফিসাদের সাথে মতবিনিময়, বৃক্ষরোপন অভিযান, অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুকনা ও অন্যান্য খাবার বিতরণ অনুষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন এবং বিভিন্ন খাল ও খাল খনন পরিদর্শন কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ তাহমিনা সুলতানা নীলা এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন এবং উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার এস এম নুরুন্নবী ও সহকারী কমিশনার জাহিন আবরার হিমেল, উপজেলা কৃষি অফিসার শিউলি মজুমদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার অফিসার ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান, তেরখাদা থানার ওসি তদন্ত মোঃ হাসানুজ্জামান, উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন জুপি রানী সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার হানিফ সিকদার, উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সৈয়দ তালহা আশরাফ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পলাশ মন্ডল, একাডেমিক সুপারভাইজর রাধে শ্যাম ঘোষ, উপজেলা দারিদ্র বিমোচন অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রজিত সরকার, আইসিটি অফিসার মোঃ রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় অফিসার মঞ্জুরুল কবীর, ইউ আর সি ইন্সটেক্টর মোঃ নাজিবুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পূরবী রাণী বালা, তথ্য সেবা অফিসার তাছলিমা খাতুন। সভায় অন্যান্য দপ্তরের অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।