ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় রূপসায় চমকপ্রদ ফলাফল পেয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভাবনীয় ফলাফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। সেখানে কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮০ দশমিক ২১ শতাংশ। বোর্ডের গড় ফলাফলের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৯৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৭৭ জন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে জেনারেল শাখা থেকে ১৬ জন এবং ভোকেশনাল শাখা থেকে ১ জন রয়েছে। এছাড়া ফলাফলে জিপিএ-৪ পেয়েছে ৩২ জন, এ-মাইনাস পেয়েছে ৮ জন এবং বি গ্রেড পেয়েছে ৫ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরও আনুমানিক ১০ জন শিক্ষার্থী অল্পের জন্য জিপিএ-৫ অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে এবারের ফলাফলেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের সম্মিলিত ফল হিসেবেই এবারের এই সাফল্য এসেছে।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খান আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে ৭৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। তিনি বলেন, এবারের ফলাফল আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের আন্তরিক পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে ফলাফল আরও ভালো করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খান মেজবা উদ্দিন সেলিম বলেন, কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামের ধারাবাহিকতায় এবারের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে আমাদের শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল করবে।
গোল্ডেন এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী অঙ্কিতা রায়ের মাতা শিক্ষক মিনতি রানী মালাকার বলেন, মেয়ের এমন ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অঙ্কিতা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছে। তার এই সাফল্য আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের। আমি মনে করি, শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও বিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশও তার এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাসনিম সাইবার পিতা ব্যবসায়ী জহিরুল হক শারাদ বলেন, সন্তানের এমন ফলাফলে একজন বাবা হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তাসনিমের এই সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় আমরা অভিভাবকরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি আরও ভালো ফলাফল করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
রূপসা উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল শুধু একটি ভালো ফল নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও একাডেমিক সাফল্যের ধারাবাহিকতারই উজ্জ্বল প্রতিফলন।