গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানাধীন ৮ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারগাড়ি গ্রামে জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমির টাকা পরিশোধের পরও পরবর্তীতে বেশি দামে টাকা দিয়ে একই জমি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমারগাড়ি গ্রামের শ্রী শ্যামল চন্দ্র কর্মকারের ১৪ শতাংশ জমি প্রতি শতক ৫৫ হাজার টাকা হিসেবে কেনার জন্য হরি কর্মকার বাবু টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত মূল্যে জমিটির টাকা শ্যামল চন্দ্র কর্মকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে সুকুমার ও সাধন কুমার অধিক লাভের আশায় একই জমি নিয়ে নতুন করে লেনদেনের উদ্যোগ নেন। এ সময় প্রতি শতক ৬০ হাজার টাকা দরে শ্যামল চন্দ্র কর্মকারকে টাকা দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, আগে জমির টাকা পরিশোধকারী পক্ষের দাবি—জমির মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে তারা বৈধভাবে জমিটি ক্রয় করেছেন এবং ওই জমিতে ইতোমধ্যে একটি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তীতে একই জমি নিয়ে নতুন করে লেনদেন বা মালিকানা দাবি করা হলে তা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ক্রেতা, জমির মালিকানা ও টাকা পরিশোধের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কে আগে টাকা পরিশোধ করেছেন, কার সঙ্গে কী শর্তে জমি বিক্রির চুক্তি হয়েছিল এবং জমির দখল কার কাছে ছিল—এসব বিষয়ই বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে—একই জমি নিয়ে একাধিকবার লেনদেনের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো এবং প্রকৃত ক্রেতার টাকা পরিশোধের পরও কেন নতুন করে একই জমি বিক্রির চেষ্টা করা হলো?
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।