
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মান অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। ২৩ আগস্ট সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে সরকার পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি গন্তব্যে বর্তমানে বিমান প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ পাওয়া গেলে এই রুটগুলোতে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তার বেশি করার সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল থেকে নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। তবে তার আগ পর্যন্ত যাত্রীসেবা সচল রাখতে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার লিজের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বর এর সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাত্রী হয়রানি কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিমান ও বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সব জায়গায় পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু হলে সেখানে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াত সহজ হবে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থায় বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
নিউইয়র্কের সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইকাও অডিটের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মানের গ্রেড অর্জন করা গেলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই আকাশপথের যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।