
জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ এখন অনেক সহজ হয়েছে। দেশটির সরকারি অভিবাসন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট চার শ্রেণির বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধায় সেটেলমেন্ট পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পারমিট পাওয়ার মাধ্যমে একজন বিদেশি নাগরিক জার্মানিতে অনির্দিষ্টকাল বসবাস এবং কাজ করার আইনি অধিকার লাভ করেন, যা অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল।
এই বিশেষ সুবিধার আওতায় মূলত ইইউ ব্লু কার্ডধারী, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত বা ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সাধারণ নিয়মে স্থায়ী বসবাসের জন্য কয়েক বছর বৈধভাবে বসবাস, নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত আয়, পেনশন ব্যবস্থায় অবদান, জার্মান ভাষার দক্ষতা এবং দেশটির আইন ও সমাজ সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তবে এই চার শ্রেণির ক্ষেত্রে শর্তগুলো কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। দক্ষ কর্মীদের জন্য সাধারণত যোগ্য রেসিডেন্স পারমিটে তিন বছর থাকার পাশাপাশি পেনশন ব্যবস্থায় অন্তত ৩৬ মাসের অবদান রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া নির্দিষ্ট চাকরি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা এবং জার্মান ভাষায় অন্তত B1 পর্যায়ের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
জার্মানিতে পড়াশোনা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শেষ করা ব্যক্তিদের জন্যও অভিবাসন শর্ত সহজ করা হয়েছে। একইভাবে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিরাও তাদের পেশাগত ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, কেবল এই চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিট পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জার্মান অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকে। মূলত দক্ষতা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ভিত্তিতে বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হওয়ার পথ সুগম করাই এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য।