
ব্রাজিলের পারানা রাজ্যের পিরাকোয়ারা পৌরসভার গুয়ারিতুবা এলাকায় এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে পরিত্যক্ত একটি জমিতে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাড়ি তখনও কাটা হয়নি এবং তার শরীরে জন্মের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে নিজের পোষা বিড়ালের কান্না ভেবে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং শব্দ অনুসরণ করে ব্যাগের ভেতর শিশুটিকে দেখতে পান। তার দ্রুত পদক্ষেপেই শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
উদ্ধারের পরপরই জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে দ্রুত কুরিতিবার হসপিটাল দে ক্লিনিকাসে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম পূর্ণ ৪০ সপ্তাহের গর্ভধারণের পর হয়েছে এবং তার ওজন ছিল ২ দশমিক ৮ কেজি। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকেরা তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন। এর মধ্যে কলারবোন ও উরুর হাড় ভাঙার মতো গুরুতর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, প্রসবের সময়ই শিশুটি এসব আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পারানা সিভিল পুলিশ শিশুটির মাকে শনাক্ত করেছে। মা হিসেবে চিহ্নিত ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জোয়াও পাওলো পেলায়েজ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি দাবি করেছেন যে, প্রসবের পর তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং শিশুটি মৃত অবস্থায় জন্মেছে বলে মনে করেছিলেন। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, তার এই গর্ভধারণ একটি যৌন সহিংসতার ফল। পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে বিষয়টি গোপন রাখতেই তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।
পুলিশ কিশোরী ও তার বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল। তবে ঘটনার সময় হাতেনাতে আটক না হওয়ায় আপাতত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। পুলিশ এখন ঘটনার পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে; বিশেষ করে কিশোরীর পরিবার আগে থেকে গর্ভধারণের বিষয়টি জানত কি না বা শিশুটিকে পরিত্যাগের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া শিশুটির শরীরে আঘাতের কারণ সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।
বর্তমানে শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালত ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একটি প্রতিবেদনে কিশোরী ও তার বাবা-মায়ের শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে। দ্য সান ও ইউওএল ব্রাজিলের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এই ঘটনাটি ব্রাজিলের পারানা রাজ্যে নবজাতকের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজের সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, যার দ্রুত পদক্ষেপে একটি প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের একটি জমিতে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যাগটির ওপর কালো একটি তোয়ালে দেওয়া ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাটিয়াকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তকারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করেন।