
নেপালে গত বুধবার আঘাত হানা প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যায় পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বরুণ লামিছানে। ২৬ বছর বয়সী এই যুবক বিবিসিকে জানান, দুর্যোগে তাঁর ভাই, চাচা ও এক চাচাতো ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তাঁর মা, বাবা ও দাদি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। স্বজনদের বেঁচে যাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে বরুণ বলেন, তাঁরা ‘শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে’ পাহাড়ের ঢালের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তিনি আরও বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত তাঁরা বেঁচে আছেন, তবে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
দেশটিতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক; নেপালে ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া চীনের তিব্বত অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬৫ জন আমেরিকান এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, পর্বত থেকে ধসে পড়া বরফ, পাথর ও মাটি নদীর পানির সঙ্গে মিশে প্রবল ঢল তৈরি করে। এই মিশ্রণটি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বন্যার রূপ নিয়ে জনপদ ভাসিয়ে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে পানি আটকে নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় আরও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তাঁর মা, বাবা ও দাদি পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম, ভিডিওতে দেখা গেল নেপালের বন্যার ভয়াবহতা।