
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে রেডিও নেপাল জানিয়েছে। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, প্রায় ৫৭৯ জন পর্যটকের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকাতেও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এই দুর্যোগের ভয়াবহতার এক করুণ সাক্ষী ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল। নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা, পানি ও পাথরের স্রোতের কবলে পড়েন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি জানান, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি তার স্ত্রীর হাত ধরে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় তিনি স্ত্রীর হাত ধরে রাখতে ব্যর্থ হন এবং চোখের সামনেই তাকে হারিয়ে ফেলেন।
ঘটনার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার উদ্ধারকারী দল কেশবকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু এখনো তার স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কেশব জানান, তিনি নিজে বেঁচে ফিরলেও স্ত্রীর কোনো খবর না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার এই হৃদয়বিদারক বর্ণনা নেপালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগের পর থেকে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নিখোঁজদের তালিকায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও কানাডাসহ দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ প্রিয়জনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকার দিকে তাকিয়ে আছেন।
কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার এই গল্প কেবল একজন মানুষের টিকে থাকার লড়াই নয়, বরং এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে তার এক করুণ দৃষ্টান্ত। উদ্ধারকাজ চলমান থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিখোঁজদের সন্ধানে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।