
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টায় মোনাকোর চোখধাঁধানো গ্রিমালদি ফোরামে এই ড্র কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নতুন ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতায় ৩৬টি দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি দলের জন্য উয়েফার ড্র সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৮টি করে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ম্যাচ হবে হোম এবং ৪টি অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। প্রতিটি দল চারটি আলাদা সিডিং পট থেকে দুটি করে প্রতিপক্ষ পেয়েছে।
ড্র অনুযায়ী, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কোচ লুইস এনরিকের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলবে। এছাড়া তাদের ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইউরোপা লিগ জয়ী অ্যাস্টন ভিলার মাঠে গিয়েও লড়তে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বার্সেলোনার মাঠে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ ভালো; ২০১৭ সালের মার্চে ৬-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক হারের পর থেকে বার্সেলোনার মাঠে খেলা শেষ তিনটি ম্যাচেই তারা জয় পেয়েছে, যার মধ্যে গত অক্টোবরের ২-১ গোলের জয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
টুর্নামেন্টের রেকর্ড ১৫ বারের বিজয়ী রিয়াল মাদ্রিদকে এবার বায়ার্ন মিউনিখ এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো শক্তিশালী জার্মান প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে। এদিকে, দুই বছর পর প্রতিযোগিতায় ফেরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখের, যা ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক ফাইনালের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে। এছাড়া গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদে ফেরা কোচ হোসে মরিনহো তার পরিচিত প্রতিপক্ষ ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবেন। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে মরিনহো ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছিলেন।
প্রতিযোগিতার সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্বের খেলা ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ছয়টি ম্যাচ ডে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন বছরের জানুয়ারিতে পুনরায় লিগ পর্ব শুরু হবে এবং ২৭ জানুয়ারি অষ্টম বা শেষ পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি মার্চ মাসের রাউন্ড অব ১৬-এ জায়গা করে নেবে। ৯ থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো ফেব্রুয়ারিতে প্লে-অফ নকআউট পর্বে লড়বে, যেখান থেকে রাউন্ড অব ১৬-এর বাকি ৮টি দল নির্ধারিত হবে। ২৫ থেকে ৩৬তম স্থানে থাকা দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এই আসরে অংশগ্রহণকারী ৩৬টি দল প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ইউরো বা ২.৯ বিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি ভাগ করে নেবে। বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে আর্সেনাল (হোম), অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (অ্যাওয়ে), রিয়াল বেতিস (হোম), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (অ্যাওয়ে), বোডো/গ্লিমট (হোম), লিল (অ্যাওয়ে), স্ল্যাভিয়া প্রাহা (হোম) এবং ভাইকিং (অ্যাওয়ে)।
ম্যাচ ডে সূচি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচ ডে ৮-১০ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় ম্যাচ ডে ১৩-১৪ অক্টোবর, তৃতীয় ম্যাচ ডে ২০-২১ অক্টোবর, চতুর্থ ম্যাচ ডে ৩-৪ নভেম্বর, পঞ্চম ম্যাচ ডে ২৪-২৫ নভেম্বর এবং ষষ্ঠ ম্যাচ ডে ৮-৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯-২০ জানুয়ারি সপ্তম এবং ২৭ জানুয়ারি অষ্টম ম্যাচ ডে শেষে লিগ পর্বের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বেশ কঠিন সূচি পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৩৬ দলের লিগ পর্বের ড্রতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে কোচ লুইস এনরিকের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে (হোম ম্যাচ)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইউরোপা লিগ বিজয়ী অ্যাস্টন ভিলার মাঠে গিয়ে খেলতে হবে তাদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেস ফেব্রিগাসের কোচিংয়ে খেলা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল কোমোর মাঠেও সফর করবে পিএসজি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের আটটি ম্যাচের এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মোনাকোর বৃহস্পতিবারের ড্রতে পাওয়া অন্যান্য বড় ম্যাচের মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দুই বছর পর এই প্রতিযোগিতায় ফিরে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে, যা ১৯৯৯ সালের তাদের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।