
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এইচ-১বি ভিসাধারীসহ বিভিন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাবটি এখন প্রশাসনিক পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করেছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস (DHS) এই নিয়মটি পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাবিত নিয়মটি গত ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’ শিরোনামের এই প্রস্তাবটি (নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২) ২৭ আগস্ট পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে এগিয়েছে।
বর্তমানে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এইচ-১বি কর্মী চাকরি হারালে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন। তবে যদি ওই কর্মীর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, তবে সেই আগের তারিখটিই কার্যকর থাকে। ২০১৭ সাল থেকে এই সুবিধাটি বিদেশি কর্মীদের জন্য কার্যকর রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বজায় রাখা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।
তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে ডিএইচএসকে এই প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রক্রিয়া শেষে সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি অংশ। সমালোচকদের দাবি, কিছু কোম্পানি বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে কম খরচে কাজ করিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত করছে। এর পাশাপাশি নতুন এইচ-১বি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি আরোপের প্রস্তাবও সামনে এসেছে। ফলে নিয়োগের খরচ বৃদ্ধি এবং চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ—উভয় দিক থেকেই বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।
অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রস্তাবটি কার্যকর হলেও চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার করা হবে এমন নয়। তবে বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধা বাতিল হলে কর্মীদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এইচ-১বি কর্মীদের জন্য আগের নিয়মই বহাল রয়েছে এবং হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই দেশ ছাড়তে হচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সময় এই প্রস্তাবে কোনো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা ব্যতিক্রম রাখা হয় কি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। চাকরির আরও তথ্য: চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। চাকরির আরও তথ্য: নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।