
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। ২০২৫ সালে ঠিকাদারদের অসহযোগিতার কারণে উপজেলার আটটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদাররা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেনি। এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর জানান, সময়মতো কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারদের জরিমানা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে হাবিব রোড, লবণাক্ষী রোড ও টেরিয়াল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে কাদাপানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সড়কগুলোর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী এবং বয়স্ক মানুষের যাতায়াত এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের বেলায় ভাঙা অংশগুলো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে, যা জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় সীতাকুণ্ডের এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়িয়া ও মহামায়ার মতো দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াতের প্রধান পথগুলোও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। একদিকে গ্রামীণ অবকাঠামোর এই দুরবস্থা, অন্যদিকে নতুন বরাদ্দের সংকটে অনেক সড়কের সংস্কার কাজ আটকে আছে। ফলে জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, সীতাকুণ্ডে নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন বরাদ্দ প্রত্যাশিত হারে পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টিআর, কাবিটা ও কাবিখার বিভিন্ন পর্যায়ের অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারসহ ছোটখাটো অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে। সরকারি অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় একদিকে যেমন উন্নয়ন থমকে আছে, তেমনি জনগণের দুর্ভোগও কাটছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সীতাকুণ্ড উপজেলা এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ঠিকাদার কাজ না করায়, উপজেলার আটটি সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বেহাল সড়কে যাতায়াতে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে যেসব সড়কের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল সেগুলোর দুর্ভোগও কাটেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সড়কগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি ও কাদা জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।