
আজ ৮ সেপ্টেম্বর, ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং এখনো নিরক্ষরতার সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া লাখো মানুষের সংগ্রামকে তুলে ধরতেই দিবসটি পালন করা হয়।
এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সাক্ষরতাকে কেবল পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে না দেখে, বরং মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষকে প্রথাগত বর্ণমালা চেনার বাইরে এনে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উদযাপনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এছাড়া বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও র্যালি ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এনজিও দিবসটি উপলক্ষে নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।