
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নীরবতা ভেঙেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি ‘মৃত্যুর হুমকি’ পেয়েছিলেন। তবে তার এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফেডারেশনের ভাষ্যমতে, নিজের অপেশাদার আচরণের দায় এড়াতেই জোনস এখন এমন কাল্পনিক অভিযোগ তুলছেন।
বাফুফে সূত্রে জানা যায়, একজন পেশাদার কোচ হিসেবে যে ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখার কথা ছিল, জোনস তার কোনোটিই পালন করেননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। তার এই ‘ক্র্যাক’ আচরণের কারণেই টুর্নামেন্টের মাঝপথে তাকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয় ফেডারেশন। বাফুফে কর্মকর্তাদের মতে, যদি সত্যিই তাকে হুমকি দেওয়া হতো, তবে তিনি আইনের আশ্রয় না নিয়ে ফেসবুকে প্রচার করতেন না। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনার কোনো প্রমাণও তিনি দিতে পারেননি।
চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও জোনস গত আগস্টে নিয়মবহির্ভূত পথ বেছে নেন। তিনি প্রকাশ্যে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ফেডারেশনকে হেয় করার চেষ্টা করেন, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া ইউসিবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় গিয়ে ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে উগ্র আচরণ এবং হোটেলে অহেতুক পুলিশ ডাকার মতো ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের আগে ও চলাকালীন দলের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জোনসের শিষ্যরা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলটি তার অধীনে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে তিন ম্যাচ খেলে কোনোটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। গত ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। টুর্নামেন্টের বাকি সময় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে জোনসের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
নিজের বরখাস্তের বিষয়ে জোনস দাবি করেছেন, ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বাজে কিছু বার্তা পেয়েছি এবং আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। আমি একজন স্বামী, বাবা ও সন্তান।’ এছাড়া মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে তার প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারের অর্জন মুছে যেতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে বাফুফের দাবি, দলের বাজে পারফরম্যান্স এবং ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাকে দেওয়া হয়েছিল সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আর চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে নিজের বিদায়ঘণ্টা নিজেই বাজালেন এই বিদেশি কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেননা, সিসিক্যামেরার ফুটেজসহ অনেক কিছুই রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেকোনো পেশাদার সংস্থায় আর্থিক কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলে সেটি সমাধানের একটা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাফুফের পক্ষ থেকে তার পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। চাকরির আরও তথ্য: ছুটির দিন থাকায় বেতনের টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকের ম্যানেজারের দিকে তেড়ে যান এই কোচ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে একের পর এক ম্যাচে হেরে বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঠের বাইরে যেসব ঘটনায় আলোচিত হলেন কোচ জোনস, সেটি একনজরে দেখে নেওয়া যাক।