
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানার প্রতি অশালীন শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে সংসদে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে।
বিলের আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই একটি নিজস্ব চরিত্র থাকে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সারের সংকট এবং দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ঘটনাগুলো অনিবার্য হয়ে ওঠে। রুমিন আরও যোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। তার এই বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করলে তিনি তাদের অসহিষ্ণু আচরণের সমালোচনা করে বলেন, মনে হচ্ছে আমরা আবারও আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি।
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে আলোচনার সময় রুমিন বলেন, এই ধারাটি খেলাপি ঋণে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই সংসদে বেশিরভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে রিট করে নাম কাটানোর সংস্কৃতি বহু পুরনো। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন।
সংসদে হট্টগোলের মধ্যে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বিরোধী দলের অন্য সদস্যদেরও এই আচরণের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রুমিন ফারহানা আসলে কী বলেছেন বা গালি দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে রুমিন তার বক্তব্য রাখার অধিকার ও পরিবেশ পেয়েছেন কি না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাস্থ্যকর আলোচনা বজায় রাখার আহ্বান জানান। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্যে অসংসদীয় কিছু থাকলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, কোনো সদস্যকে বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয় এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের দায়িত্ব।
বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুরো পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আসলে কী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং কী ঘটছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। সরকার শেষ পর্যন্ত বিলটি পাসের মাধ্যমে বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে রুমিনকে গালাগাল করা হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও প্রতিবাদ জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উনি কি গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন।