মোঃ কাওছার মিয়া দিপু বগুড়াঃ
সরকারি শিক্ষা ক্যাডারের রিটের কারনে শিক্ষা আত্মীকরণ বন্ধ হয়ে গেল।প্রিয় পাঠক,পৃথিবীর সবচেয়ে অবহেলিত শিক্ষাব্যবস্হা হলো বাংলাদেশের।যার পরিণতি আজকে সমাজে প্রতিফলিত হচ্ছে।প্রকৃত শিক্ষা ২০, ৩০,৪০ বছর আগের মতো আর নেই।আজ ডিগ্রি আছে মেধা নেই।অনেক উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষার্থীকে ছাগলের সাথে তুলনা করা চলে।দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, অকর্মণ্য শিক্ষক আর অব্যবস্থাপনার কারনে আজ এ অবস্থা।বাংলাদেশে শিক্ষার একটি বৃহৎ অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।সেই তুলনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান অতি নগণ্য।সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থী ভর্তি হতে গেলে সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। ফলে সেখানে সব ভাল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়।গ্রামের বা শহরের বেসরকারি সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সবচাইতে খারাপ রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়।খোঁজ নিয়ে দেখবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গাধা তাড়িয়ে মানুষ করে আর সরকারি প্রতিষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা করে অভিভাবকদের অনেক অর্থ খরচ করে প্রত্যেক বিষয়ে প্রাইভেট,কোচিং করে তাদেরকে আরও ভালো রেজাল্ট করতে হয়।বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গরীব মেধাহীন শিক্ষার্থীরা এমন সুযোগ পায় না।সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জবাবদিহিতা না থাকার কারনে সপ্তাহে দুদিন কলেজ গেলেই চলে।আর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সবগুলি ক্লাস করানো হয়।এখানে কিছুটা হলেও জবাবদিহিতা আছে।আমি একজন অভিভাবক, আমার ছেলেমেয়েরা প্রত্যেকদিন কলেজ থেকে ফিরলে জিজ্ঞেস করি কয়টি বিষয় ক্লাস হলো।তারা একটি থেকে দুটির বেশী বলতে পারেনা।তারা দুজনই জেলা শহরের নামকরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।সন্তানদের ভবিষ্যত চিন্তা করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য তাদের প্রাইভেট,কোচিং করাতে বাধ্য হচ্ছি।
একজন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক হিসেবে আমি হলফ করে বলতে পারি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া তো দূরের কথা কখনো চিন্তাও করিনি।বেসরকারি সব শিক্ষকরাই এমন।ফলে একেবারে মেধাহীন শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ভাল রেজাল্ট না করতে পারলেও পাশের হার আমরা বাড়িয়েই চলেছি এবং শিক্ষার বড় ঘাটতি পূরণ করে চলেছি।গুটিকতক ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের মর্যাদার দাম দিতে গিয়ে আজ গোটা শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে।দেশে হাজার রকমের শিক্ষাব্যবস্থা সরকার চালু করেছে।ফলে শিক্ষা আজ বাণিজ্যিক করণে পরিণত হয়েছে। উদ্ভট নিয়ম কানুনের কারনে ২৫ বছরের বেসরকারি একজন শিক্ষক উচ্চতর স্কেল পায় না। ফলে মর্মাহত এ সব শিক্ষকরা উদ্দ্যম হারিয়ে ফেলছে।
শেষ কথা হলো শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষা ক্ষাতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি , প্রশ্ন ফাস, দ্বায়িত্বহীনতা, মেধাহীন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা, বহুমুখী শিক্ষার প্রচলন বন্ধ করে জাতিকে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্হার অধীনে এনে দেশে একটি সমৃদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্হা চালু করতে হলে বেসরকারি শিক্ষকদের জীবন মানের উন্নয়ন সমাজের সাথে সংগতি রেখে তাদের বেতুন ভাতা পদোন্নতি এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে সামাজিক ভাবে মর্যাদাবান করে শিক্ষাঙ্গনে তাদের দ্বায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। তা না হলে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্হাকে জাতীয়করণ করা অথবা গোটা শিক্ষা ব্যবস্হাকেই বেসরকারি করণ করতে হবে। বিসি এস ক্যাডার তাদের জন্য ভিন্ন ব্যবস্হা রেখেই সমগ্র ব্যবস্হাপনাকেই ঢেলে সাজানো দরকার তাহলেই জাতি সু-শিক্ষাই শিক্ষিত একটি প্রজন্ম পাবে। দেশ হবে সমৃদ্ধ।