কাহালু উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়নের জামগ্রাম বাজারের হামিদুল ইসলাম ওরফে হামদু পাগলার বড় ছেলে মো: আব্দুস সালাম ও লায়েল ওরফে রায়হানের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী গ্রুপ সিন্ডিকেট।
তারা জামগ্রাম বাজারের মূর্তিমান আতঙ্ক এবং বাবা বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সম্প্রতি বেশ কিছু নির্মম ঘটনারর মাধ্যমে সামনে আসে তাদের নাম। অন্যের জমি-পুকুর দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে অসহায় মানুষদের হয়রানি ও অর্থ আদায়,মাদক ব্যবসা, রাস্তায় আটকিয়ে মারপিট ও বাড়িঘর ভাংচুর, দুর্নীতি ও অনিয়ম এর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।এমনকি রয়েছে একাধিক মামলাও। আর এদেরে আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা হলেন জামগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খোকন, জামগ্রাম ইউপি স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো: আলিম হোসেন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো: সাজেদুল ইসলাম খোকন।
জামগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খোকন, জামগ্রাম ইউপি স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো: আলিম হোসেন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো: সাজেদুল ইসলাম খোকন সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে জামগ্রামকে অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে অসহায় মানুষদের হয়রানি ও অর্থ আদায়,মাদক ব্যবসা, রাস্তায় আটকিয়ে মারপিট ও বাড়িঘর ভাংচুর, দুর্নীতি ও অনিয়ম এর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের মাথার ওপরে ছাতা হয়ে থাকায় এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী তারা। তাদের কথার বাইরে যায় এমন লোক এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাবেক আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তারা ছিলেন অতিসাধারণ মানুষ। তবে কালক্রমে সরকারি দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদে তারা ক্ষমতাবান হয়ে যান। এরপর তাদের বরাত খুলতে থাকে। হয়ে যায় অঢেল সম্পদের মালিক।
আব্দুস সালাম ও রায়হানের আমলনামা : কিছুদিন আগে জামগ্রাম বাজারের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়া।তার ক্রয়কৃত ও ধীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা জায়গায় রান্নার জায়গা ভাংচুর করে দখলে নেয়।আর এতে অংশ নেয় সালাম রায়হান বাহিনীর অন্তত ১৫-২০জন। বর্তমানে তারা বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২০০৯ সালে আৗয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে জামগ্রাম মৌজার (সাবেক হাল দাগ-১৮৪৭, বর্তমান হাল দাগ- ৩৩০৪)৬০ শতাংশ পুকুর দখলে নেন তারা। এরপর তারা নিজেদের বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জামগ্রাম বাজারের মৃত রমজান আলীর পুত্র শাহ আলম, মৃত-আহম্মদ আলীর পুত্র মো: শাহ আলম সহ অনেকের জমি ও বসতভিটা জোড়পূর্বক দখল করতে যায়। কিন্তু কাহালু থানা পুলিশের সহায়তায় সেই সময় ভুক্তভোগীরা রক্ষা পেলেও মিথ্যা ও বানোয়াট একাধিক মামলা দেয় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে জাল দলিল বানিয়ে জোড়পূর্বক জায়গা ও বাড়ি দখল করার অভিযোগ রয়েছে অহরহ।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে- মৃত হামিদুল ইসলাম ওরফে হামদু পাগলা করতেন মাদকের ব্যবসা। হামদু পাগলার মৃত্যুর পরে তারা ছেছেরা ধরে রেখেছেন পিতার ঐতিহ্য।তারা ৩ ভাই জড়িত আছেন মাদক ব্যবসার সাথে।
এই বিষয়ে আব্দুস সালামের সাথে কথা বলতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। রায়হানের বক্তব্য চাইলে, তিনি বলেন- জায়গা আমার তাই দখল করেছি।তাতে কার বাপের কি? মিথ্যা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই বিষয়টা আদালত দেখবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামগ্রাম এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সালাম-রায়হানরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।তাদের এইসব অপকর্মের বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন খোকন চেয়ারম্যান ও আলিম।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বাবলু বলেন: আমি নিজের কষ্টের টাকায় জায়গা কিনেছি। দির্ঘদীন ধরে কষ্ট করে আমি আমার পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি কিন্তু গত ৮তারিখে দুপুর বেলা হঠাৎ করে ১৫ থেকে ২০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাড়ির বাইরে থাকা রান্নাঘর ভাংচুর করে জায়গাটি দখল নিতে গেলে আমি ও আমার ছেলে তাতে বাধা দেই।এতে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার ও আমার ছেলেকে মারপিট করে। মারপিটে আমার ছেলের মাথা ফেটে যায় ও আমার হাত পায়ে জখম হয়। আমরা দ্রুত আমার ছেলেকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় জিয়া মেডিক্যালে ভর্তি করি। সে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী শাহ-আলম জানান- আমার বাপের আমলের সময়ে আমার বাপ দাদাদের ক্রয়কৃত জায়গা আমরা ভোগদখল করে আসছি। আমাদের কাছে সেই জায়গাগুলোর দলিল,খাজনা-খারিজ সহ যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে তারা আমাদের জায়গা দখল করতে আসে। আমরা সহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এর বেশ কিছুদিন পরে আমরা জানতে পারি আমাদের নামে তারা কোর্টে মামলা দিয়েছে। তারা যে সকল কাগজপত্র দিয়ে মামলা করেছে তা ভূয়া হিসিবে আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পরেও বারবার বিভিন্ন ব্যক্তি দিয়ে ও সালাম ও রায়হান তারা নিজ নাম দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করতে। আমি এদের হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।সেজন্য প্রশাসন সহ সকলের সহযোগীতা চাই।