মোঃ সজীব হোসাইন- ময়মনসিংহ বিভাগ: আম্মার আদরের সন্তান ছিলাম আমি। শুনছি আমার জন্য তিনি অনেক সুখ ও দুঃখ সহ্য করেছেন। বিগত ৫ বছরে সমাজিক নেতৃত্বের দন্ডে বহুবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমি যখন বিভিন্ন জটিলতায় ছিলাম- তখন আম্মাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিল। যাইহোক চলার পথে দুইজনকে আম্মা ডেকেছিলাম। সে হিসাবে আমার ডাকমা দুইজন। দুইজনের আবার একই নাম। তিনজনই প্রায় সমবয়সী। প্রথম জনের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ নাই। তিনি আমাকে- নদীর তাজামাছ ভাজিকরে খেতে দিতেন। তিনি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। হয়তো এখনো আছে। দ্বিতীয় জন হয়তো আমাকে ভুল বুঝেছে। তিনি আমাকে অর্থ, মেধা ও বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে ব্যপক সহযোগিতা করেছেন। আমি কখনো আগে প্রকাশ করিনি- আমাকে অর্থ দেন। আমার প্রয়োজন অনুভব করে তিনিই আমাকে অর্থ দিয়েছেন। আমি তা পরিশোধও করে দিয়েছি। তিনি আমার এতই শ্রদ্ধেয় ছিলেন, যে আমি কোথাও গেলে তার অনুমতি বা অবগত করে যেতাম। তিনি আমাকে বলতেন- কখনো অনুমেয় কথাকে সত্য মনেকর না। আমার ধারণা- তিনি প্রথম দিকে আমার মাঝে ব্যপক সম্ভাবনা দেখেছিলেন, এখন আর তা দেখতে পাচ্ছেন না। আমাকে তার প্রয়োজন নাই এমনটি ভেবে হয়তো দূরত্বে যেতে চেয়েছিলেন। ঐ সময় তার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে হঠাৎ কল করে। ডাকমা যোগাযোগ না করায়- তার প্রতিছিল- হাজারো অভিযোগ ও অভিমান। তার শুভাকাঙ্ক্ষী প্রশ্ন করলো- তার সাথে কেন যোগাযোগ কর? উত্তরে এমনটাই বুঝাতে চেয়েছিলাম যে- " তার সাথে যোগাযোগ করবো, না করবো তা আমি ও তিনি সিদ্ধান্ত নিব। তিনি নিষেধ করলে তো আর যোগাযোগ করিনা। তিনি আমাকে আর্থিক সাহায্য করে।" কথাগুলো রাগে ও খুবে বলেছিলাম, যদিও তা আমার নীতির বিরোধী ছিল। তবু তা কোন অবস্থায়ই খারাপ ছিলনা। তবে তার শুভাকাঙ্ক্ষী যা যা বলেছিল- তা ছিল খুবই নোংরা। সেই নোংরা কথাগুলো ডাকমা শুনলেও ইতস্ততা বোধ করতো। আমি সেই কথাগুলো ডাকমাকেও বলিনি। ডাকমায়ের সাথে আগের মত যোগাযোগ নাই। স্মরণ করিনা বিষটি এমন না তবু আমাদের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আমার এই তিনজন আম্মা সুস্থ্য থাকুক, পরমায়ু বৃদ্ধি পাক এই দোয়া করি। যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করতে ভর্তি হয়েছিলাম- তখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়- ময়মনসিংহ এর ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ একজন অধ্যাপক এর পাশে বসে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য শুনতাম। ১৩ বছর বয়সে সেচ্ছাসেবী সংগঠন গঠন করেছিলাম। সুশৃঙ্খল ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবো ভেবেছিলাম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখে- রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চেয়েও প্রবেশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে রাজনীতি করবো কি না- সেই বিষয়ে এখনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সামাজিক কাজের নেতৃত্বে (গ্রাম বা মসজিদ কেন্দ্রিক সমাজ নয়) রয়েছি। সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে কাজ চলমান রেখেছি। মানব প্রেম আমার নেশা। অতিতে এক সময় বলেছিলাম- "পৃথিবীতে যাদের সন্তান নেই- তাদের ছেলেও আমি মেয়েও আমি। যার মা নেই তার মা আমি, যার বাবা নেই তার বাবা আমি। প্রত্যেক মা ই আমার মা।" আমি আমার অতিতের সেই কথা এখনও মনে প্রাণে লালন করি। সে হিসাবে "আমার বিপুল সংখ্যক আম্মা"।অর্থের অভাবে হয়তো ভালবাসা প্রকাশ করতে পারিনা।আমিও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চাই, তবে তা কোন প্রকার অনৈতিক পথে না। আমি আমার নীতিতে অবিচল ও অটল। আমার সকল মায়েরা ভাল থাকুক, আমার সকল সন্তানেরাও ভাল থাকুক। তারা দীর্ঘজীবি হোক। খোদাহাফেজ মোঃ সজীব হোসাইন সাংবাদিক, কবি ও লেখক। ভালুকা, ময়মনসিংহ।