যশোর উপশহর এলাকার জামায়াত নেতা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাই সিদ্দিকী বুলবুলকে হত্যার অভিযোগে দীর্ঘ ১১ বছর পর ৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে।
গতকাল নিহত বুলবুলের অাত্বীয় মণিরামপুরের মামুনুর রশিদ মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া এ অভিযোগের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে অগ্রগতিসহ কোতয়ালি থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, নতুন উপশহর সি-ব্লক’র মৃত সৈয়দ মনজুর আলমের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী মনসুর আলম, বিরামপুর গাবতলা এলাকার মৃত মোকাম হোসেনের ছেলে হাদিউজ্জামান চিমা, উপশহর ১১ নম্বর সেক্টরের ইউনুচ বেগের ছেলে সেতু, বিরামপুরের জলিল ড্রাইভারের ছেলে হাঁস লিটন, ঘোপ বউবাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে টাক শিপন, ঘোপ কবরস্থান এলাকার রফিকুলের ছেলে তামিম, সদরের সিরাজসিংহা গ্রামের আবু চিটারের ছেলে কামরুল ও একই গ্রামের এখলাছ ফকিরের ছেলে বরাত।
বাদীর আইনজীবী গাজী এনামুল হক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বুলবুল জামায়াত নেতা ছিলেন। আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জানালা দিয়ে আসামিরা বুলবুলের মাথায় গুলি করে হত্যা করেছিল। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সে সময় মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশ এখন অনুকূলে আসায় ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ মামলার দুই আসামি মারা গেলেও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে তারা সরাসরি জড়িত। তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই দুই আসামির মৃত হওয়ায় বিষয়টি উল্লেখ করে চার্জশিটে তাদের অব্যহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রুহিন বালুজ, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান, অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন আহম্মেদ, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান প্রমুখ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আব্দুল হাই সিদ্দিকী বুলবুল মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি তার উপশহরের বাসায় কম্পিউটারে বসে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তার ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ বাসায় বেড়াতে যান। তিনি রুমে ঢোকার সময় বাইরে মনসুর, চিমা ও টাক শিপনসহ অন্য আসামিরা বাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিল। কিছু সময়ের মধ্যে মনসুর জানালা দিয়ে বুলবুলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত বুলবুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৭টা ৫৫ মিনিটে মারা যান
আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী হওয়ায় ও পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা কেউ মামলা করতে পারেননি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।