দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবেদন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন দূর্নীতিবাজ সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমের ক্ষমতাবলে সরকারি প্রকল্পে নয়ছয় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
জানা গেছে দেশের তৃণমূলে উন্নয়ন ও দরিদ্রদের সহায়ক হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নানা শিরোনামে অর্থ বরাদ্দ হয় উপজেলা ও জাতীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে। উন্নয়নের জন্য ত্রাণ, দুর্যোগ ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ অর্থ থোক, সাধারণ ও বিশেষ নামে পরিচিত। একইভাবে বরাদ্দ হয় প্রত্যেক সংসদ সদস্যের অনুকূলে। উপজেলার অনুকূলে বরাদ্দ অর্থ সমন্বয় কমিটির সভার মাধ্যমে বণ্টন হয় বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত এলাকার প্রকল্পের নামে।
যা বাস্তবায়নের দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলেও দেখভালের দায়িত্ব থাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ওপর।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন সংসদ সদস্যের বরাদ্দ বানিজ্যে মুল হোতাদের আশকরকুর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া, সংকরকুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর, চেহেলগাজী ইউপি চেয়ারম্যান জোরজিস সোহেল, শেখপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুলের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারের অর্থ লুটতে থাকেন।
হুইপের ক্ষমতাবলে পিআইও জসীম উদ্দীন এক স্টেশনে চাকুরী খুঁটি গেড়ে থেকে জান সাড়ে ৪ বছর।
বদলি তো দূরের কথা তিনি সাড়ে ৪ বছরে ফ্যাসিবাদ সরকারের দালাল সেজে ঠিকাদারদের মতো সরকারি প্রকল্পে ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত গ্রামাঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগ টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে এগিয়ে আছে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন।
এ ব্যাপারে (পি.আই.ও) জসিম বলেন, চাকুরী জীবনের এমন তৈরি হয়, কিন্তু আমি সাংবাদিকদের সাথে বন্ধু সূলভ চলতে চাই।
তিনি পরে অভিযোগের বিষয়গুলো ইউএনওর উপর চাপিয়ে দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন জানান, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দকৃত ২১ টন ১০০ কেজি মেট্রিকটন গম যার আনুমানিক মূল্য ৭ লক্ষ্য ৩৮ হাজার টাকা দিনাজপুর সদরের ৯ নং আস্করপুর ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙ্গা পাড়া হতে খানপুর সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত জলদাড়া সংস্কার করার থাকলে তৎকালীন আস্করপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়ার মাধ্যমে কাগজ কলমে ৫ সদস্যের কমিটি করে (পি.আই.ও.) সহ সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাতের করেছেন ।
তিনি বলেন, আমি আমার গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যে ১১৬ জনের গণসাক্ষর নিয়ে আমি মন্ত্রণালয় দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এখনি সময় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।
আরও অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সরকারের যত প্রকল্প লুটপাট করেছে সব গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিনাজপুর বাসী।