কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্নীতির শীর্ষে থাকা কর্মকর্তা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিরাজুদ্দৌলা। তিনি সাবেক এমপি এম এ মতিনের ক্ষমতা বলে দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর নিয়ম বহির্ভূত ভাবে একই চেয়ারে অবস্থান করছেন। সাবেক এমপি মতিন ছিলেন তার আশীর্বাদ। ৫ আগস্ট ছাত্র জনতা গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হওয়ার সাথে সাথে গা ধাকা দেন দেশের সকল দুর্নীতিবাজ এমপি মন্ত্রী। কিন্তু তারা চলে গেলেও রেখে গেছেন তাদের লালিত পেত আত্মা গুলোকে। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা। পি আই ও সিরাজউদ্দৌলার সকল দুর্নীতির অপর খলনায়ক ইঞ্জিনিয়ার রাজন। তার মাধ্যমেই মিডিয়াপাড়া থেকে শুরু করে সকল জায়গায় সেলামি হিসেবে মোটা অংকের টাকা পৌঁছে দিয়ে থাকেন তিনি। এই রাজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।
এর আগে দুর্নীতির দায়ে সিরাজুদ্দৌলার বান্দরবনে বদলি হলেও স্থানীয় সাবেক এমপি মতিনকে দিয়ে তদবির চালিয়ে ১১ দিনের মাথায় বদলির নির্দেশনা বাতিল করান।
একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিরাজুদ্দৌলাকে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বদলি করা হয়। আদেশে থানচির পিআইও মো. সুজন মিয়াকে উলিপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। উভয় কর্মচারীকে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছিল অধিদফতর। অন্যথায় ২১ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নের পর বর্তমান কর্মস্থল থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন-১) ও সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। আদেশটি অধিদফতরের ওয়েব সাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই আদেশ না মেনে পিআইও সিরাজুদ্দৌলা থানচিতে যোগদান করেননি। বরং বদলি ঠেকাতে কালো টাকার বস্তা নিয়ে কোমর বেঁধে তদবির করতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
সূত্রটি আরও জানায়, নির্দিষ্ট তারিখে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে সিরাজুদ্দৌলা বদলি ঠেকাতে স্থানীয় সাবেক এমপি মতিনের মাধ্যমে অধিদফতরে লবিং করেন। সেই তদবিরের ফল হিসেবে তার বদলি আদেশ বাতিল হয়েছে।
উল্লেখ, পিআইও সিরাজুদ্দৌলার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে বিল প্রদান, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্পের টাকা ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্রের লটারিতে ফলাফল পাল্টে নিজ সহকর্মীর ভাইয়ের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলাও চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে এর আগে পিআইও সিরাজুদ্দৌলার ড্রোপ টেস্টেরও দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু শক্ত খুটির জোরে তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা কে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন উলিপুর উপজেলার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ।