গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের তালুক মন্দুয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধে দিন যতই যাচ্ছে ততই বেড়িয়ে আসছে একের পর এক কাজে ফাঁকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে ছিল অদক্ষতা, অফিস ফাঁকি, বিদ্যালয়ের জমি জনগণের দখলে দেয়া, বিদ্যালয়ের ক্লাসে বাংলা, ইংরেজি রিডিং পড়তে না পারা ও শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে যথারীতি মাসিক মুল্যায়ন ও প্রান্তিক মুল্যায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় এলাকার সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, তালুক মন্দুয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত গাইবান্ধা সদরে আরো বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অদক্ষ ও শিক্ষা জ্ঞানহীন শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বস নেমেছে।
প্রকাশ, উক্ত তালুক মন্দুয়ার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে " গাইবান্ধার তালুক মন্দুয়ার প্রাথঃ বিদ্যাঃ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অংক ও রিডিং না পাওয়াসহ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমানিত তথ্য সমুহ ছাড়াও আরো বের হতে শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে আরো অপকর্মের অভিযোগ। তিনি "সরকারের মাল দরিয়ামে ঢাল" এর মত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সরকারী বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বেড়িয়ে আসছে আরো ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। ফলে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।
এদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ম রয়েছে যথাসময়ে যথারীতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাসিক মুল্যায়ন ও প্রান্তিক মুল্যায়ন করার কথা। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এলাকার অভিভাবক ও নির্ভরশীল একটি সুত্র জানায়, উক্ত ধুরন্ধর প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ২০২৪ ইং সালে প্রথম শ্রেণি হতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক মুল্যায়ন করা হয়নি। এছাড়াও ২০২৪ ইং সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রান্তিক মুল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের নিজ নিজ ছেলে মেয়েদের প্রান্তিক মুল্যায়ন দেখতে চাইলে দেখাতে পারেনি বলে নির্ভরশীল একটি সুত্র জানায়।
নির্ভরশীল সুত্রটি আরো জানায়, গাইবান্ধা সদরের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে সদর উপজেলার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বস নেমেছে। তাদের কর্মে গাফিলতির কারণে সঠিক তদারকি না করায় এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাই গাইবান্ধা সদরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে আগে উল্লেখিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে এলাকার সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেছেন।