যশোরে আবার খুন হয়েছে। এবার বাসের মধ্যে খুন হয়েছেন হেলপার বাপ্পি সরদার (২৬)। বাসের মধ্যেই তাকে ছুরিকাঘাত করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাপ্পি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের ইদ্রিস আলী সরদারের ছেলে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পরিবহনের চালক নড়াইলের মল্লিকপুরের এনামুল হোসেন (৫২) ও সুপারভাইজার যশোরের রূপদিয়ার উজ্জলকে (৩০)ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
চালক এনামুল ও সুপারভাইজার উজ্জল জানিয়েছেন, বাপ্পি সরদার ট্রাভেলসের ‘মায়ের দোয়া’ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৯৭৯৮ নম্বর বাসের হেলপার ছিলেন। এই বাসটি বাগেরহাট টু ঢাকার আব্দুল্লাহপুর যাতায়াত করে থাকে। যশোরে থেকে তাবলীগ জামায়াতের একটি টিম নিয়ে তারা ঢাকায় যায়। শুক্রবার বিকেল তিনটায় ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যশোর আসে। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাবার কথা ছিলো। রাতে বাসটি যশোর মণিহার এলাকার ঢাকা রোড তালতলা এলাকার মেসার্স মুনির উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের সামনে রাস্তায় রাখা ছিলো। হেলপার বাপ্পি বাসের মধ্যে থাকে। সকাল ৭টার দিকে তিনি (চালক) এনামুল বাসের কাছে যান। কিন্তু দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে উকি মেরে ইঞ্জিন কভারের ওপর রক্ত দেখতে পান। সে সময় বাসের ম্যানেজার রুমিকে ফোন দেন। তিনি পুলিশে সংবাদ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে বাসের মধ্যে বাপ্পির মরদেহ দেখতে পান। তার ধারণা রাতে বাসের মধ্যেই তাকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়েছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক, ডিবি পুলিশের একটি টিম, পিবিআই ও র্যাবের একটি টিম সেখানে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
ঘটনা শুনে নিহতের পিতা ইদ্রিস আলী সরদার যশোরে আসেন এবং হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান।
তিনি জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগে বাপ্পি বাড়ি থেকে বের হয়। সে হেলপারি করে। শনিবার সকালে তার মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে যশোরে আসেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, বাপ্পির স্ত্রীর সাথে তালাক হয়ে গেছে। তার একটি মেয়ে আছে।
যশোর কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ঘটনা শুনে তিনি সেখানে যান। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এই ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। তবে পুলিশের একাধিক টিম এ বিষয়ে কাজ করছে। নিহতের শরীরের ঘাড়ে, বুকে ও কোমরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ চারিদিকে অভিযান শুরু করেছে।
ঢাকা রোড তালতলা এলাকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ওই এলাকায় একটি হরিজন পল্লী আছে। সেখানে দিনরাত অবাধে মাদক বিক্রি হয়। নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এছাড়া ওই স্থানের রাস্তা পাশে সারিসারি নানা ধরনের যানবাহন রাখা হয়। ছিনতাইকারীচক্র খুব সহজে যানবাহনের আড়ালে লুকিয়ে থেকে অবাধে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীরা মাঝেমধ্যে আতঙ্কের মধ্যে পড়ে ওই স্থান পার হতে গিয়ে। ফলে এই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসা উচিৎ।