হবিগঞ্জের মাধবপুরে চাঁদা না দেওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শাহ মো: মুসলিম বাহিনীর হামলায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মাধবপুর পৌরসভার তিতাস হাসপাতালের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহবায়ক মো: জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের আমলের মাধবপুরের ত্রাস মুসলিম বাহিনীকে সহযোগিতা করার। এব্যাপারে আহত সাবেক সেনা সদস্য মো: আমির হোসেন খান বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমির হোসেন খান জানান, শাহ মো: মুসলিম এর বাড়ির পাশে সে বাড়ি নির্মাণের কাজ করেছেন। কাজ শুরুর পর থেকেই শাহ মো: মুসলিম এর ছেলে শাহ মো: আরাফাত রহমান তাঁর কাছে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি ধামকি দিয়েছে মুসলিম বাহিনীর লোকজন। শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটায় ব্যাংক থেকে তিন লাখ বিশ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়ি যাওয়ার সময় তিতাস হাসপাতালের সামনে আবারও চাঁদা চাইলে, চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ মো: আরাফাত রহমান ও মুসলিম বাহিনীর সদস্য মো: শাহ নেওয়াজ , মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: মনির হোসেন, দুলাল মিয়া, আজিজ মিয়া, রিয়াজ মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ( জাসাস) এর আহবায়ক এনামুল হক জুয়েল সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন মিলে তাকে মারধর করে আহত করে টাকা নিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাহ মো: মুসলিম বাহিনীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। এলাকায় কেউ বাড়িঘর বা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান করতে চাইলে তাদের চাঁদা না দিয়ে কিছু করতে পারতো না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও কিভাবে তারা এলাকায় চাঁদাবাজি করছে? এখন জাসাস এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাসাস এর আহবায়ক এনামুল হক জুয়েল তাদের শেল্টার দেওয়ায় তারা এখনো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। আমি থানায় অভিযোগ করার পরও এখনো এনামুল হক জুয়েল প্রভাবের কারণে কোন আসামিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা হয়ে কিভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে তিনি চাঁদাবাজি করেন এবং হামলা করেন।
বিবাদী শাহ মোঃ আরাফাত রহমান (তড়িৎ) এর মোবাইল বন্ধ থাকায় উনার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে মাধবপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে ইন্সপেক্টর কবির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন অভিযোগ পেয়েছি এসআই শাহিনুর কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।