কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার কাহালু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে এখনও চলছে ঘুষ,দুর্নীতি ও প্রতারণা। দলিল করতে এলেই দিতে হবে ঘুষ। সরকারী ফিস, ষ্ট্যাম্প ও ব্যাংক চালানের পরও প্রতি লাখে অফিসকে দিতে ৫শ’টাকা এবং প্রতি দলিলে জেলা রেজিষ্ট্রারের নামে বাড়তি দিতে হয় ৩শ’ টাকা করে। প্রতিটি নকল (সাটিফাই কপি) নিতে গুনতে হয় ২ হাজার ৭শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাব-রেজিষ্টারের খুটির জোর কোথায় ?
ঘুষ,দুর্নীতি চাঁদা বাজী,সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে দেশের ছাত্র-জনতা জীবন বাজী রেখে বৈষম্য বিরোধীআন্দোলনে নামে। প্রায় সহস্রাধিক শহীদের রক্ত এবং লাখ ছাত্র-জনতার আহত ও অঙ্গহানীর মধ্যে দিয়ে গত ৫ জুলাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়। পতনের পর ঐ সরকারের দোসর সুবিধা ভূগী দুর্নীতিবাজ,ঘুষ খোঁর কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকুরী থেকে অব্যহৃতি প্রদান করা হয় এবং অনেককে করা হয় ওএসডি। কিন্তু স্ব-ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডার, দুনীতিবাজ ঘুষ খোঁর কাহালুর রেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার ছোলাইমান আলী ,অফিসের কেরানী রহিমা খাতুন,নকল নবিশ ছানোয়ার হোসেন ও কতিপয় প্রভাবশারী দলিল লেখবসহ অফিস স্ট্যাফ বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন,ঘুষ,দূর্নীতি ও প্রতারণা বানিজ্য। রেকর্ড,দলিল ভূমি উন্নয়ন করসহ সকল কাগজ-পত্র থাকলেও অফিসের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই হতে হয় নানা ভাবে হয়রানীর শীকার। বৈধ কাগজ পত্র ,সরকারী নিদ্ধারিত ফিসের ব্যাংক চালান ও প্রয়োজনীয় ষ্ট্যাম্প দিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করতে এসেও অফিসে দিতে হয় প্রতি লাখে ৫শ’টাকা হিসেব ঘুষ এবং তার সাথে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রারের নামে প্রতিটি দলিলে ৩শ’টাকা কওে অতিরিক্ত। আর এই টাকা গুলো দলিল লেখকদের মাধ্যমে প্রতিদিন বুঝিয়ে নেন অফিসের প্রধান কেরানী রহিমা খাতুন। রেজিষ্ট্রি শেষে মূল দলিলের (রশিদ) রিছিপ নিতে দলিল গৃহীতাকে গুন্তে অতিরিক্ত আরো ৪শ’ টাকা করে। কাহালুর দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিষ্টার খুটির জোর কোথায় ? ভূক্ত-ভুগী মহলের প্রশ্ন।
দলিলের নকল কপি সরকারী নিদ্ধারিত ফিস সর্বচ্চো সাড়ে ৪শ’ টাকা হলেও নেওয়া হয় ২ হাজার ৭শ’টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু তাইনা দলিলের তল্লাসী করতে এলে নেওয়া হয় প্রতি সনের জন্য ২শ’ টাকা কওে যা সম্পূর্ন অবৈধ ঘুষের পর্যায় পড়ে। নিদ্দিষ্ট সময় পর মুল দলিল ফেরৎ নিতে গেলেও অফিসের দিতে হয় ১শ, থেকে ২শ’ করে বাড়তি টাকা। এক কথায় ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না কাহালু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস।
এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার ছোলাইমান আলীর সাথে কথা বলা হলে তিনি প্রতি লাখে ৫শ’ টাকা ও প্রতি দলিলে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রারের নামে নেওয়া ৩শ’ টাকার কথা অস্বীকার করেন। তাহলে অফিসের প্রধান কেরানী রহিমা সহ ৩ জন অফিস স্ট্যাফ প্রতিদিন আপনার পার্শ্বে বসে সাদা কাগজে কিসের হিসাব লেখেন এবং দিন শেষে দলিল লেখকদের নিকট হতে কিসের টাকা নেন ? প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। দলিলের রশিদের টাকা ,নকলের অতিরিক্ত টাকা বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি কোন প্রকার সৎ উল্টর দিতে পারেননি।