কাহালু (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ কাহালু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের যোগদানের করোই সরকারী সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিজেকে ছাত্রলীগও বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন সাব-রেজিষ্ট্রা ছোলাইমান আলী। তার নিজের তৈরী আইনে ও পছন্দের লোকজন দিয়ে পরিচালনা করেন অফিস দূর্নীতির এযেন দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য।
কাহালু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের রেজিষ্ট্রার ছোলাইমান আলী যোগদান করেই নিজেকে তৎকালিন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ও বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে দাপটের সাথে সরকারী সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিজের তৈরী আইনে সপ্তাহের ৫ দিনের স্থলে ৩ দিন করে অফিস চালু করেন। অবশিষ্ট ২ দিন তিন অফিসরে কর্যক্রম বন্ধ রাখেন। ফলে ঐ ২ দিন কোন দলিল রেজিষ্ট্রিতো হয়েইনা উপরান্ত রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল ফেরৎ, সার্টিফাই কপি (দলিলের নকল) নিতে এবং বিভিন্ন কাজে এসে সাধারণ মানুষ নানা ভাবে হয়রানীর শীকার হন। সপ্তাহের রবি,সোমও মঙ্গলবার তিনি অফিসে সাড়ে ৯ টার পরিবর্তে তিনি আসেন দুপুরের পর। এসেই তিনি অফিসের কাজ-কর্ম ফেলে রেখে কেরানী ও তার আস্থাভাজনদের খাস কামরা ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে পূর্বে দিনের ভাগ বাটোয়ারা সমপূর্ণ করেন।
তার কতিপয় আস্থাভাজন দলিল দলিল লেখক ছাড়া, অন্য দলিল লেখক তার নিকট দলিল নিয়ে গেলে তিনি আজগবি ভুল ধরে রেজিষ্ট্রি না করে অফিসের কেরানীর মাধ্যমে আসার নির্দেশ দেন। এছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্রের সাথে নামের অক্ষরের সামান্য গরমিল থাকলে তিনি সেই দলিল ফেরৎ দিয়ে ৪ টার পর আসতে বলেন। পিতা ,মাতার পৈত্রিক সম্পত্তি বা কোন মৃত ব্যক্তির ওযারিশরা ভূমি উন্নয়ন কর পরিষদ করে দলিল রেজিষ্ট্রি করতে এলে তার সাথে পূর্ব চুক্তি ছাড়া তা রেজিষ্ট্রি হয়না। অথচ তার সাথে চুক্তির মাধ্যমে একই কেটাকেটির শত শত দলিল রেজিষ্ট্রি হয়েছে যার প্রমাণ অফিসের দলিল খোঁজলেই ভুরি-ভুরী মিলবে। শুধু তাই না জমির মালিক নয় এমন ব্যক্তির নামে ভুয়া আর এস তৈরী করে দলিল রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে যার একাধিক প্রমাণও আছে।
উপজেলার ধানপূজা মৌজার ১০ শতক জমি। জনৈক ভদ্রমহিলা তার পিতার মৃত্যুর পর বৈধ ওয়ারিশ হয়ে জমির উন্নয়নকর (খাজনা) পরিশোধ করে একটি মস্জিদে দান করতে এসে সাব-রেজিষ্ট্রারের সাথে কথা বার্তা বলে দলিল লিখে এবং ব্যাংক চালান দিয়ে রেজিষ্ট্রি করতে গেলে তিনি মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। টাকা না দেওযায় সেই দলিল তিনি আর রেজিষ্ট্রি করেননি। কাহালু সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস যেন “দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্য”।