দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) থেকে সজিব
দুপচাঁচিয়া উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে শীতের শিশির ভেজা সকালে ঘন কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো সরষের হলুদ ফুল রঙিন হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠগুলোতে ব্যাপকহারে সরষে চাষ হয়েছে। সবুজ গাছের ফুলগুলো শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই মনে হচ্ছে সরষে ফুলের হলুদ আচ্ছাদনে ঢেকে আছে চারদিক। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃশ্য। দেখে মনে হচ্ছে প্রকৃতি কন্যা সেজেছে গায়ে হলুদ বরণ সাজে।
চারদিকে সরষে ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠগুলো। সবুজ শ্যামল প্রকৃতির ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেমনি প্রকৃতির রূপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠ। সবুজ, সোনালী ও হলুদে সাজে ফসলের মাঠ। এমনি ফসলের মাঠ পরিবর্তনের এ পর্যায়ে হলুদ সরষে ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে ফসলের মাঠ।
দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে শুধু হলুদ আর হলুদ। দেখে মনে হয়, বিছানো রয়েছে হলুদ গালিচা
রঙের পাশাপাশি সরিষা ফুলের গন্ধ মাতিয়ে দিয়েছে পুরো এলাকা। রং আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।
খিহালী গ্রামের মতোই দুপচাঁচিয়া উপজেলার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর দুপচাঁচিয়া ৬টি উপজেলায় ইউনিয়নে ৯ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
গোবিন্দপুর ইউনিয়নের খিহালী গ্রামের কৃষক মনু মিয়া বলেন, এবার ঝড় বৃষ্টি হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।গত বছরের চেয়ে চলতি বছর সরিষার চাষ বেশি হয়েছে।