মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: মামলায় সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নাম করে গাইবান্ধা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত কোমল চৌধুরী নামের জনৈক পিয়ন কর্তৃক মামলার বাদী সুন্দরী জান্নাতি বেগম এর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন। উল্লেখিত পিয়ন কোমল চৌধুরীর স্ত্রী কর্তৃক সুন্দরগঞ্জস্থ জান্নাতি বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কোমল চৌধুরীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা ফাঁস করে।
তদুপরি কোমল চৌধুরীর লোলুপ আকর্ষণে সুন্দরী জান্নাতি বেগমের বাড়িতে গেলে এলাকাবাসী আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মদতপুষ্ট হাবিব নামের স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় মাত্র ২৫ হাজার টাকায় দফারফা করে ছাড়া পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকাশ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের কামারের ভিটা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের কন্যা জান্নাতি বেগমের সাথে ২০২২ ইং সালে একই উপজেলার সোনালের পাড় গ্রামের আনারুল ইসলামের পুত্র রাজু মিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী রাজু মিয়ার সাথে জান্নাতি বেগমের বনিবনা না হওয়ায় জান্নাতি বেগম বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে গত ৭/৮ মাস আগে যৌতুক নিরোধ ও পারিবারিক আইনে মামলা দায়ের করেন। এই সময়ে জান্নাতি বেগম গাইবান্ধা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাতায়াত করতে থাকে। জান্নাতি বেগম সুন্দরী হওয়ায় যাতায়াতের ফাঁকে উক্ত আদালতে এমএলএসএস (পিয়ন) পদে কর্মরত কোমল চৌধুরীর নজরে পড়ে। ফলে যুবতী জান্নাতি বেগমের ভরা টুইটুম্বর রুপ যৌবনের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে কোমল চৌধুরীর।
মামলায় সুবিধা পাইয়ে দেয়ার নাম করে গড়ে তোলে অনৈতিক সম্পর্ক। এদিকে জান্নাতি ও কোমলের এই অনৈতিক সম্পর্কটা এতই গভীরে চলে যায় যে, কোমলের সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠে। ফলে নিজের সংসারের কথা চিন্তা করে কোমল চৌধুরীর স্ত্রী সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়াস্থ কামারের ভিটা গ্রামে জান্নাতি বেগমের বাড়িতে গিয়ে উল্লেখিত অনৈতিক সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেয়। বিষয়টি তলে তলে এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী'র মতই জান্নাতি বেগমের নরম শরীরের উষ্ণতা নেয়ার উদ্দেশ্যে গত ২১ মার্চ' ২০২৫ ইং শুক্রবার জান্নাতি বেগমের বাড়িতে গেলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে সংবাদ পেয়ে গাইবান্ধা জেলা সদরে অবস্থিত মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মোঃ রুপম মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মদতপুষ্ট নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় উপস্থিত মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মোঃ রুপম মিয়া আটককৃত গাইবান্ধা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত কোমল চৌধুরী নিজের দোষ স্বীকার করে তার মতামত দেন। পরে কোমল চৌধুরীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য উক্ত ইউপি সদস্য হাবিবকে বলে চলে আসে।
কিন্তু উল্লেখিত ইউপি সদস্য আটককৃত পিয়ন কোমল চৌধুরীকে পুলিশে সোপর্দ না করে তার কাছ থেকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা নজরানার বিনিময়ে তাকে ইফতারের পর ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে তার মতামতের জন্য উল্লেখিত ইউপি সদস্যের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইলে বেশ কয়েক দফা যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করলেও গত ২৩ মার্চ বিকাল ৩টায় কোমল চৌধুরীর সাথে মোবাইলে কথা হয়। এ সময় তিনি গাইবান্ধা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন কর্মচারী হিসেবে নিজের দাম্ভিকতা প্রকাশ করে এক প্রশ্নের জবাবে মোবাইলে আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন রেকর্ড ধুইয়ে পানি খান, আর এ ব্যাপারে আমার যদি কোন করণীয় থাকলে বলেন!