কক্সবাজারের মূল ফটকে একটি শিল্পকর্ম তৈরির উদ্যোগ চলছে যা নাকি কক্সবাজারকে রিপ্রেজেন্ট করবে। চমৎকার আইডিয়া, দৃষ্টিনন্দন নকশা কিন্তু মুশকিল হলো, যতটা এই ভাস্কর্য সৌন্দর্য ছড়াবে, তার চেয়েও বড় করে ঝলমল করবে একটি কর্পোরেট ব্যাংকের নামফলক।
এটি কি তাহলে কক্সবাজার না, “ঢাকা ব্যাংকের ডলফিন মোড়”? যেখানে একটি স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিল্পকর্ম হতে পারত সেখানে একটা কর্পোরেট ট্যাগলাইনে বাঁধা পড়ে যাবে পুরো শহরের প্রবেশদ্বার।
আমরা কি জানি না, কক্সবাজারের নিজস্ব ভাস্কর, শিল্পী, স্থপতি অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা নিজের জেলার জন্য সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এই 'সিগনেচার পয়েন্ট' নির্মাণে এগিয়ে আসতেন? তাহলে কেন এই দায়টা স্থানীয় সমাজ নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে?
একটি শিল্পকর্ম শুধু সৌন্দর্য নয় এটা প্রতিনিধিত্ব করে চিন্তা, নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
আজকে যদি আমরা বর্গা দিয়ে মূল ফটক বানাই, কালকে হয়তো শহরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ টাওয়ারেও কোনো কর্পোরেট লোগো বসবে। আজ যদি ঢাকা ব্যাংক ফটকে জায়গা পায়, কাল দামেস্ক বা আরও বড় কোনো কোম্পানিকে দিতে হবে। তখন আর কক্সবাজার থাকবে না থাকবে শুধু একাধিক লোগো আর পতাকায় মোড়া একটা বাজার।
অনেকেই বলবেন, “এমন তো সবখানেই হয়” তা ঠিক, কিন্তু তাই বলে ভুলকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে?
কক্সবাজার থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব বা জিডিপি-তে অবদান যায়, সেই টাকায় শহরের এই ন্যূনতম সৌন্দর্য বর্ধন নিজস্ব চেষ্টায় হওয়া উচিত ছিল।
এই বর্গার ভিতরেই কিন্তু একধরনের সাংস্কৃতিক ভোগান্তি লুকিয়ে আছে যার খেসারত দিতে হয় ভবিষ্যতের প্রজন্মকে। তখন তারা প্রশ্ন করবে “আমাদের শহরের প্রতীক, আমাদের ভাস্কর্য, আমাদের মুখচ্ছবি সবই যদি কেনাবেচার পণ্যে পরিণত হয়, তাহলে কক্সবাজার কোথায়?”
এই চিন্তাটুকু রেখে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব। হয়তো আজ নিছক “চিন্তামূলক বাহাস” কিন্তু ভবিষ্যতে তা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।