বগুড়ার আকাশটা আজ একটু বেশিই ভারী। চারদিকে গুঞ্জন হিরো আলম ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি! সবাই অবাক, স্তব্ধ। যে মানুষটা সবসময় হাসিমুখে লড়াই করে, সে হঠাৎ এমন করলো কেন?
খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকার এক কোণে বসে থাকা রিয়া মনি চুপ করে গেলেন। অনেক অপমান করেছেন তিনি হিরো আলমকে কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কখনো ক্যামেরার সামনে। ভালোবাসা আর রাগে তাল মিলিয়ে সবকিছু একসময় বিষ হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু আজ যখন শুনলেন আলম মৃত্যুর মুখোমুখি, বুকের ভেতর কেমন হু হু করে উঠল।
তালাক হয়ে গেছে, সম্পর্ক ছিন্ন, কিন্তু স্মৃতিগুলো কি আর এত সহজে ছিঁড়ে যায়?
এই খবর পৌঁছায় আরও একজনের কাছে মিথিলা, হিরো আলমের তৃতীয় স্ত্রী। অনেক কথা, অনেক অভিমান ছিল তারও বুকে।
তবু সে দৌড়ে ছুটে এল বগুড়ার সেই হাসপাতালের দিকে। কারণ, ভালোবাসা অভিমান বোঝে, কিন্তু মৃত্যু? সে তো কাউকে সময় দেয় না।
হাসপাতালের সাদা বিছানায় নিস্তেজ হিরো আলম, চোখ বন্ধ।
মিথিলা এসে কাঁপা হাতে ধরলো তাঁর হাত। চোখের কোনে জল জমে উঠছে তার।
ঠিক তখনই, রিয়া মনি ঢুকলো কক্ষে। দুজন নারীর চোখাচোখি, যেন অতীতের সব অমর্যাদা, কষ্ট এক মুহূর্তে বাতাসে মিলিয়ে গেল।
মিথিলা চুপচাপ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
"ওকে বাসায় নিয়ে যেতে হবে, ওকে এখন আর একা রাখা যাবে না।"
রিয়া মনি কিছু বললো না, শুধু ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে আলমের মাথার পাশে বসল।
এক সময় যে মাথায় হাত রেখেও সে অভিমান করেছিল, আজ সে কাঁধে মাথা রাখল নিঃশব্দে।
আলম ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকাল দু’জনের দিকে।
গাড়ির দরজাটা খুলে দিল মিথিলা।
রিয়া মনি আলমকে বুকের কাছে আগলে রাখল, আর মিথিলা পাশে বসে হাত ধরে রাখল শক্ত করে।
তিনজনের গন্তব্য ঢাকা।
কিন্তু গন্তব্য শুধু একটা শহর নয়, বরং একটা নতুন অধ্যায়।
যেখানে অপমান ভুলে ভালোবাসা আবার দানা বাঁধে।
ভুল-ত্রুটি ছাপিয়ে মানুষ আবার মানুষকে গ্রহণ করে।