গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্ব মূহুর্তে নিজেকে দাতা সদস্য হিসেবে দাবী করেছেন এক ব্যক্তি। ম্যানেজিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন বিলম্বিত করার পায়তারার অভিযোগ।
ঘটনাটি ঘটেছে পলাশবাড়ী দ্বি-মুখী সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ঠিক আগ মূহুর্তে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে-২৫ তারিখে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ একই মাসের ২০ তারিখে বিদ্যোৎসাহী এবং সভাপতি পদে মনোনীতদের চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যে ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর তালিকা প্রেরণ করেন মাদ্রসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা জাহিদুল ইসলাম।
সেই আবেদনের বিরুদ্ধে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর লিখিত ভাবে আপত্তি জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম আকন্দ(৬৫) নামের এক ব্যক্তি। শহিদুল ইসলাম আকন্দ পলাশবাড়ী পৌরসভার উদয়সাগর গ্রামের মৃতঃ আলহাজ্ব গেন্দা আকন্দের পুত্র। উল্লেখ্য, আলহাজ্ব গেন্দা আকন্দ তার জীবদ্দশায় উক্ত মাদ্রসার নামে ৬২ শতাংশ জমি দান করে গেছেন।
এই ব্যাপারে শহিদুল আকন্দের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, "এই মাদ্রাসার আমি একজন দাতা সদস্য। আমাকে প্রিন্সিপাল সাহেব মৃত দেখিয়েছেন। তিনি কেনো আমাকে মৃত দেখালেন?" তিনি আরো বলেন একজন দাতা সদস্য হিসেবে আমি এই মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে থাকতে চাই।"
শহিদুল ইসলাম নিজেকে দাতা সদস্য হিসেবে দাবীর প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, "শহিদুল ইসলামের বাবা গেন্দু হাজী এই প্রতিষ্ঠানে ৬২ শতক জমি দান করে গেছেন। শহিদুল নিজেকে দাতা সদস্য হিসেবে দাবী করলেও তার স্বপক্ষে কোনো ডকুমেন্টস তিনি দেখাতে পারেননি।
এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক সদস্য জানান, শহিদুল ইসলাম কোনো ভাবেই মাদ্রাসাটির দাতা সদস্য নন। তিনি নিজেকে অভিভাবক সদস্য দাবী করে ম্যানেজিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনে কালক্ষেপনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সভাপতি পদে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারকে সভাপতি ও বিদ্যোুৎসাহী পদে মাওলানা আশরাফুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সুপারিশপ্রাপ্ত সুপারিশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আমার নাম প্রস্তাব করায় একটি কুচক্রী মহল কোনো ভাবেই তা মেনে নিতে পারছেন না। যে কারণে সেই মহলটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন।