বগুড়ার কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: জিল্লুর রহমান খান মিন্টু’র বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধ ভাবে জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে গত ২৮ জুলাই ২০২৫ইং তারিখে কাহালু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও কাহালু থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী শ্রী সুদেব,পিতা মৃত শ্রী যোগেশ চন্দ্র মালি, সাং কালাই ইউনিয়ন মাঝপাড়া। বিবাদী ১। জিল্লুর রহমান মিন্টু (৫৮) পিতা মৃত সিরাজ, ২। রাকিব- পিতা জিল্লুর রহমান মিন্টু উভয়ের সাং চকনজিব ইউনিয়ন কালাই কাহালু কাছে আনুমানিক ৩০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ইং সালে পৈত্রিক সম্পত্তি ৬ শতক ১৩হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করেন। কিন্তু এই মর্মে জমি রেজিস্ট্রি করে নেননি বিবাদী মো: জিল্লুর রহমান মিন্টু।কিন্তু বিবাদী ৬ শতকের জায়গায় ১২ শতক জমি জোর পূর্বক ভাবে জবরদখল করিয়া ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। এক মাস পূর্বে কালাই রাজবাটী ভূমি অফিসে জমির খাজনা পত্র পরিশোধ করতে গিয়ে দেখতে পারি ১৩৮১ দাগে আরো ৬ শতক জায়গা আছে। কাগজ পত্র অনুযায়ী গত ২২-০৭-২০২৫ ইং তারিখে আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটে বিবাদীর কাছে জমির কথা বলা মাত্র ২ নং বিবাদী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ বিভিন্ন ধরনের ভয় ভীতি খুন জখমের হুমকি প্রধান করে। এই বিষয়ে কাহালু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১নং বিবাদী মো: জিল্লুর রহমান মিন্টুর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে আমি প্রতি শতক ১৮শত টাকা দরে ৬শতক জায়গা তাদের থেকে কিনে নেই কিন্তু টাকার অভাবে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারিনি। এরপর ২০০২ সালে প্রতি শতক ২হাজার টাকা দরে আরো ৫শতক জমি কিনে নেই কিন্তু তখনো আমার টাকার অভাব থাকায় জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারিনি।
আপনি ১৯৯৪ সালে ও ২০০২ সালে জমির টাকা পরিশোধ করতে পারলেন কিন্তু জমি রেজিস্ট্রির খরচের ব্যবস্থা করেনিতে না পারণ কারণ কি ছিল প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে জনাব মিন্টু খান জানান, তখন আমার খুব অভাব ছিল তাই নিতে পারিনি।
জমি যদি আপনার নামে রেকর্ড ভুক্ত না হয়ে থাকে এবং জমির রেজিস্ট্রি কাগজপত্র আপনার নামে না থাকে তবে কি আপনি জমির মালিকানা দাবি করতে পারেন কিনা বা ধখলে রাখতে পারেন কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনার কথা সঠিক। আমার কাছে জমির যেহেতু কোন কাগজপত্র নেই সেহেতু আমি জমির মালিক না। আর আমি জমি দখলে রাখতে পারিনা।
আপনারা সামাজিকভাবে বা থানায় বসে কোন মিমাংসা করার চেষ্টা করেছেন কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অতিতে এই দরনের বসার বিষয়ে কোন আলাপ আলোচনা কোনদিনই হয়নি। কিন্তু আজ থেকে ১৫দিন আগে সুদেব কাকা হঠাৎ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে শুনেছি। থানার এসআই যোগাযোগ করেছে। আমরা হয়তো এই সপ্তাহে বসবো।
আপনি তাকে মারপিট বা হুমকি প্রদান করেছেন কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, আমি এই দরনের কিছুই করিনি।
এই বিষয়ে অভিযোগকারী শ্রী সুদেব এর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আজ থেকে ৩০বছর আগে আমি ৬শতক জমি ১৫হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে তা আমি জানি।মিন্টু দাদাকে জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি রেজিস্ট্রি করে নেননি। কিন্তু বাকি যে ৬শতকের জমি কিনে নেওয়ার কথা উনি বলছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি ৬শতকের কিনে নেওয়ার কথা স্বীকার করতে পারি তবে বাঁকি ৬শতকের কথাও স্বীকার করে নিতে আমার অসুবিধা কোথায়? তিনি শুধু ৬শতক কিনে নিয়েছেন বাঁকি ৬শতক আমাদের। তিনি বাঁকি ৬শতক কিনে নেননি। এই বিষয়ে তার সাথে গত ২২ জুলাই সকালে কথা বলতে গেলে তিনি ও তার ছেলে আমাকে মারতে উদ্দত্য হন। এছাড়াও জমিতে গেলে আমার মাথা কেটে পুতে রেখে দেবেন বলে হুমকিও দেন। আমরা হিন্দু মানুষ দাদা, আমরা নিরুপায়। কার কাছে বিচার দেব বলেন? এলাকার ও প্রতিবেশীদের পরামর্শে তাই থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি কিন্তু এতোদিন হয়ে গেল, আজ পর্যন্তুকোন সমাধান পেলাম না।
থানায় বসার কোন তারিখ বা দিন নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না। এই বিষয়ে আমাদের কেই কিছিু জানায় নি। কোন দিন বা কোন সময় বসবে তার কোন কিছুই আমরা জানিনা। আমাদের কিউ কিছু বলেনি দাদা।
এই বিষয়ে কাহালু থানার এস আই মো: মাসুদ করিমের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ একটা পেয়েছি, দুই পক্ষকেই আগামী মঙ্গলবারে থানায় আসতে বলা হয়েছে। ২ পক্ষের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই বিষয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার সুধীজনের সাথে আলোচনা করা হলে, তাহারা বলেন যে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষ যার সম্পত্তি তাকে ফেরত দেওয়া হোক। এই বিষয়ে বাদী সুদেব প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।