যশোর সদর উপজেলার মুক্তেশ্বরী নদীর ১৫০ মিটার দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে। এ নদী দখলমুক্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারকে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় জেলা পরিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদুল হক বলেন- সদরের মুক্তেশ্বরী নদী জিয়ার খাল থেকে রাস্তা পর্যন্ত ১৫০ মিটার দখল করে এক ব্যক্তি প্লট আকারে বিক্রি করছে। ওই ব্যক্তির নাম মনা। তিনি মাছ চাষের জন্য লিজ নেন। এখন তিনি মাটি ভরাট করে বিক্রি করছেন। একই কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম।
দুই কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম নদী রক্ষা দখলমুক্ত করতে তিন সদস্যে কমিটি গঠন করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারকে নির্দেশ দেন। কমিটির সদস্য হবেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও সদরের এসিল্যান্ড।
তিনি বলেন- জমি দখলমুক্ত করতে হবে। মুক্তেশ্বরী নদী থেকে শুরু করে সকল নদীর সীমানা রক্ষা করতে হবে। নদনদী পরিষ্কার করতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে কচুরীপানা পরিষ্কার করাসহ দুষনমুক্ত করার কাজ শুরু করতে হবে। আমরা অন্তর দিয়ে কাজ করি না। অসৎ উদ্দেশ্যে করি।
সেই সাথে তিনি কেশবপুর, মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার জলাবদ্ধতার ও বাসিন্দাদের অবস্থার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডদের বক্তব্য শোনেন।
সরকারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাইমেনুল হক বলেন, ১৯৫৫ সালের আইন অনুযায়ী আরএস ম্যাপ এসিল্যান্ড সংশোধন করতে পারে। এজন্য তিনি নদীর জমি রক্ষায় পদক্ষেপ নেবেন।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন- জলাবদ্ধতার কারনে ১৫০ পরিবার আশ্রয় ও আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস করছে। এসিল্যান্ড নিয়াজ মাখদুম বলেন- নেহালপুরের তিনটি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারনে সেখানকার বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষের জন্য অস্থায়ী টয়লেট ও ওয়াশরুম করা হয়েছে।
অভয়নগর উপজেলার এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন- জলাবদ্ধতার কারণে সেখানকার ৩১ পরিবারের মধ্যে আট পরিবার রাস্তায় ও বাকিদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য ২০টি টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।