বরিশালের বাবুগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে মারা গেলেন মোটর মেকানিক ইয়াসিন (২৪)। তিনি রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি গ্রামের মানিক হোসেনের একমাত্র ছেলে। শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনায় নিহতের বাবা মানিক হোসেন বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একই গ্রামের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম।
আসামিরা হলেন রাসেল সিকদারের ছেলে মমিনুল ইসলাম লিমন (২০), ইমন (২৪), লিমনের মা নাজমা বেগম (৪৫), চাচাতো ভাই রিপন ও রাকিব।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধু লিমনের কাছে কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন ইয়াসিন। টাকা ফেরত না পেয়ে লিমনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন তিনি। এ ঘটনার জেরে লিমন ক্ষুব্ধ হন।
গত ২২ আগস্ট লিমন ফোনে ডেকে নিয়ে ইয়াসিনকে স্থানীয় মহিষাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন নদীর পাড়ে মারধর করেন। পরে সেদিন রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের বাড়ির সামনে ইয়াসিনকে আটকায় লিমনসহ কয়েকজন। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে লিমন ইয়াসিনের পেটে আঘাত করেন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ইয়াসিন মারা যান।
ইয়াসিনের বাবা মানিক হোসেন বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে মিমাংসার জন্য। কিন্তু আমি কোনো মিমাংসা চাই না, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম বলেন, ধারের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা (নং-২৫) হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।