নাটোরের বড়াইগ্রামে ৩০ কেজি গাঁজাসহ সায়েম (৩৪) নামে এক কাভার্ডভ্যানচালককে আটক করে পুলিশ। স্থানীয়দের উপর প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও মাত্র সাত কেজি গাঁজা দেখি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেয়া এসআই আব্দুর রাজ্জাক এ ঘটনা সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্ত ওই এসআই আব্দুর রাজ্জাককে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনও কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে একটি নীল রঙের কাভার্ডভ্যান ছাতিয়ানগাছা মোল্লাপাড়া মোড়ে থামিয়ে ওই গাড়ি থেকে একটি বস্তা নামায়। এসময় এলাকাবাসী চোর সন্দেহে ধাওয়া দিলে বস্তা ফেলে দুইজন পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীর হাতে আটক হয় গাড়ির চালক। পরে পুলিশে খবর দিলে বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা ও বহনকারী কাভার্ডভ্যানসহ ওই চালককে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, ধাওয়া খেয়ে আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়, পুলিশ আসার পরে বস্তা ভর্তি ১৩ প্যাকেট ও একটি ব্যাগের মধ্যে গাঁজা বোঝাই ছিল, আনুমানিক ওজন ২৮ থেকে ৩০ কেজি হবে। এসময় গণমাধ্যম কর্মীদের খবর দিতে চাইলে এবং কাভার্ডভ্যানে আরও গাঁজা আছে কিনা দেখতে চাইলে এসআই আব্দুর রাজ্জাক এলাকাবাসীর উপর চড়াও হন।
এ ঘটনায় ৭ কেজি গাঁজা জব্দ দেখিয়ে অজ্ঞাত দুইজনসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার সুশীল সমাজ। প্রকৃত ঘটনা এবং উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ জানতে এসআই আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, গতরাতে কর্তব্যরত অফিসার ৭ কেজি গাঁজা ও একটি কাভার্ডভ্যানসহ একজনকে থানায় সোপর্দ করে। অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিসহ তিনজনের নামে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা ৭ কেজি কিভাবে হল? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, থানায় ১৪ প্যাকেটে ৭ কেজি গাঁজা পেয়েছি, সেই অনুসারে মামলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট উপজেলার রাজাপুর থেকে ৫ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। পরে থানায় পৌঁছানোর পূর্বেই তা ৫০ গ্রাম হয়ে যায়।