মাগরিবের আযানের সময় লোডশেডিং এর ঘটনায় মুসল্লিদের চরম ক্ষোভের মুখে জানা গেলো, “আযানের সময় লোড বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং দেয়ার ঘটনা। নেসকো কর্তৃপক্ষের এমন কথায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির বালাই নেই। সারাদিন ভালো। শুধু আযানের সময় লোড বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মুসল্লিসহ হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মাঝে। গত কয়েক মাস ধরে নীলফামারী শহরের একাংশে মাগরিবের আযানের সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়মে পরিনত হলেও ভিআইপি ফিডার সার্কিট হাউজসহ অন্যান্য ফিডারগুলি রয়েছে নির্ঝঞ্জাট। ঠিক আসর কিংবা মাগরিবের আযানের সময় মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার বলার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ চলে যায়। নীলফামারী শহরের একাংশের সব মসজিদের আযান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চরম বিপাকে পরছেন মুসল্লিরা। মজার ব্যাপার নামাজ শেষ হতে না হতেই ১০-১৫ মিনিটের মাথায় আবার বিদ্যুৎ এসে হাজির। কাকতালিয় ভাবে ঠিক আযানের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সোজাসাপটা জবাব, এনএলডিসি (জাতীয় লোড ডিসপাস সেন্টার) থেকে লাইন কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন আযানের সময় লাইন কাটা হয় কেনো, এর কোন সদুত্তর নেই তাদের কাছে। বিষয়টি নিয়ে নেসকোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে গত ৫-৬ মাসে বহুবার কথা বলেও এর সুরাহা করা যায়নি। অথচ ২৫০বেডের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল, নীলফামারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে এ ফিডারের আওতায়। তার পরেও কি ভাবে এই ফিডারটি এলএনডিসি’র আওতায় গেলো এর কোন জবাবও নেই কারো কাছে। গত ১, ২ ৩, ৫, ৬, ৮ এবং ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের আযান শুরুর সাথে সাথেই নীলফামারী শহরের একাংশের বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই পুঃনরায় চালু হয়। নিউ ওয়াপদা সাব ষ্টেশনে যোগাযোগ করে জানা যায়, এনএলডিসি থেকে লাইন বন্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এনএলডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও তার সারা পাওয়া যায়নি। তবে এস,ই (০১৭৩৩২৯৩৭৯) এর সঙ্গের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আযানের সময় লোড বেড়ে যাওয়ায় নীলফামারীতে লোডশেডিং করা হয়। প্রতিদিন ঠিক আযানের সময় লোড বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চাইলে, তিনি চুপ থাকেন। নীলফামারী ২৫০বেডের জেনারেল হাসপাতালসহ ৩টি হাসপাতাল যে ফিডারে, সে ফিডার এসকাডারের আওতায় কি ভাবে নেয়া হলো জানতে চাইলে, তিনি বলেন, অন্য ফিডারে ডিসি অফিস থাকায় এটি করা হয়েছে। ডিসি অফিসেতো ডাবল লাইন রয়েছে, তখন নেসকোর এই কর্মকর্তা চুপ থাকেন। বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতাল ফিডারগুলি এনএলডিসির আওতায় থাকার কথা নয়, কিন্তু নীলফামারীতে এর ব্যতিক্রম। এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর নেসকো, নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম মাগরিবের নামাজের ওয়াক্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রহিতকরণের জন্য নামাজের সময় লাইন বন্ধের ফিরিস্তি তুলে ধরে গ্রীড ইনচার্জ সৈয়দপুরকে পত্র পাঠিয়েছেন। অপর দিকে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক এঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, আওয়ামী দোষরের পেতাত্ব বসে আছে ওখানে, তা না হলে আযানের সময় লাইন বন্ধ হবে কেনো।