রাজধানীর দক্ষিণখানের জামতলায় মাত্র ১ কাঠা জমির উপর চারতলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। সিটি জরিপ নম্বর ৩০৬২৩–এর এই প্লটে কোনো বৈধ নকশা বা রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি।
গোপন সূত্র ও সরেজমিন তদন্তে জানা গেছে, ভবনটিতে কোনো বৈধ নকশা নেই এবং আশেপাশে প্রবেশের উপযুক্ত সড়কও অনুপস্থিত। ফলে এটি কেবল ভাড়াটিয়াদের জন্য নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করা অসম্ভব হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা বহুবার আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু মালিকপক্ষ নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে রাতারাতি ভবন নির্মাণ করেছেন। এখন আমরাই আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
ভবনের মালিক আলী হোসেন (৭০) স্বীকার করেছেন যে ভবনটি রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলে তার মেয়ে মিতু সাংবাদিকদের সাথে উদ্ভট ও অসামাজিক আচরণ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য, হুমকি ও অপবাদ প্রদান করে দাবি করেন যে ভবনের সকল অনুমোদন রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিতুর জল্লাদীয় আচরণে তারাও দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ।
মাত্র ১ কাঠা জমির উপর চারতলা ভবন নির্মাণে স্বাভাবিক জীবনযাপন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরু গলি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই অবৈধ ভবন যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, এই নির্মাণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল।
অবৈধভাবে নির্মিত এ ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে মালিক মাসে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া তুলছেন। অথচ ভাড়াটিয়াদের জীবন যে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো অজ্ঞাত শক্তির প্রভাবে কি প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে?
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং অনুমোদনবিহীন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটতে পারে।